সিলেটে বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন ৪৬ লাখ মানুষের কল্যাণে কাজ করছে সরকার: সমাজকল্যাণমন্ত্রী
সিলেটে বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন ৪৬ লাখের কল্যাণে কাজ করছে সরকার

সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেছেন, দেশে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন অনুযায়ী ৪৬ লাখের বেশি বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি ও শিশু রয়েছেন। এসব বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি ও শিশুদের সম্পদে রূপান্তর করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। তার অংশ হিসেবে প্রতিটি ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলাপর্যায়ে তাদের চিকিৎসাসেবা, বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ ও খেলাধুলার জন্য আগ্রহীকরণসহ নানা ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাই বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন এসব ব্যক্তি ও শিশুদের বোঝা মনে না করে তাদের সহযোগিতায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। আর তাদের সম্পদে রূপান্তর করতে হলে প্রত্যেকের অভিভাবকদের গুরুত্ব অপরিসীম।

স্পেশাল এবিলিটি সামিট ২০২৬

মঙ্গলবার হিউম্যান কেয়ার বাংলাদেশের আয়োজনে এবং ট্রোপ ইভেন্টস ও জিআইইটি ইন্সটিটিউটের সহযোগিতায় সিলেটে অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী ‘স্পেশাল এবিলিটি সামিট ২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি ও শিশুদের মেধা, প্রতিভা এবং অধিকার সুরক্ষার মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে সিলেটে দেশের প্রথম বৃহৎ পরিসরের এই অন্তর্ভুক্তিমূলক প্ল্যাটফর্মের আয়োজন করা হয়। এবারের সামিটের মূল প্রতিপাদ্য ‘অ্যা সেলিব্রেশন অব হিউম্যান পটেনশিয়াল’ বা মানব সক্ষমতার উদযাপন।

মন্ত্রীর বক্তব্য

সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেন, আপনারা লক্ষ্য করবেন বিশেষ চাহিদা সম্পন্নরা একেকজন একেক গুণে গুণান্বিত। যাদের হাত নেই তারা যখন পা দিয়ে লেখে তখন সেই লেখাগুলো আমাদের চেয়েও আরও সুন্দর ও মার্জিত হয়। এছাড়া বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্নদের মেধা অনুযায়ী কাজ দিলে তারা খুব দ্রুত সেই কাজে সফল হয়। বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন শিশুদের সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে হলে আমাদের সমষ্টিগত দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি। রাষ্ট্র ও সমাজকে যৌথভাবে শিক্ষা, চিকিৎসা এবং সামাজিক অংশগ্রহণের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শ্রমমন্ত্রীর বক্তব্য

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন এই অসাধারণ মানুষদের সঠিক প্রশিক্ষণ ও সুযোগ দিলে তারা দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নে অনন্য অবদান রাখতে সক্ষম। এজন্য আমাদের কর্মপরিবেশকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সংবেদনশীল করতে হবে।

অনুষ্ঠানের অন্যান্য বক্তা

হিউম্যান কেয়ারের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান এমজি রাব্বানীর সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি সৈয়দা শারমিন ফাতেমা ও সাইকা তাবাসসুম চৌধুরী নাহিয়ার যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন হিউম্যান কেয়ারের উপদেষ্টা সামা হক চৌধুরী ও সায়মা সুলতানা চৌধুরী লিনু। সামিটে বিভিন্ন সেশনে অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন- সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এমএ মালেক, সিলেট-৬ এর সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, লিডিং ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী, সিলেট মেডিকেল ইউনিভার্সিটির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক, নাসিম হোসাইন, ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সমাজসেবক ইশতিয়াক আহমেদ সিদ্দিকী, ড. মোস্তফা শাহ জামান বাহার, বিশিষ্ট সাংবাদিক আফতাব চৌধুরী, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সিলেটের সেক্রেটারি মাহবুবুল হক চৌধুরী, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক হিসকিল গোলজার, দৈনিক পূর্ণভূমির সম্পাদক আবু তালেব মুরাদ, সিলেট প্রেস ক্লাবের সেক্রেটারি সিরাজুল ইসলাম, সাংবাদিক ইকরামুল কবির, ফয়সল আহমদ চৌধুরী, কবি সালেহ আহমদ খছরু, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো: আব্দুর রফিক, ফুলকলীর ডাইরেক্টর জসিম উদ্দিন, সাংবাদিক মঈন উদ্দিন মনজু, সাংবাদিক আনিস রহমান, সাংবাদিক সুলতান সুমন, রোটারিয়ান মাজহারুল ইসলাম জয়নাল, এস রহমান সায়েফ, মিলাদ রহমান, মো. হাবিবুর রহমান প্রমুখ।

মূল প্রবন্ধ ও প্যানেল আলোচনা

সামিটের মূল প্রবন্ধ তুলে ধরেন জাকিয়া সুলতানা লিমি চৌধুরী। দিনব্যাপী এ আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘ভুল ধারণা ভাঙা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা’ শীর্ষক একটি বিশেষ প্যানেল আলোচনা। যেখানে প্যানেলিস্ট হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেন সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোস্তফা তৌফিক আহমেদ এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম।