গরমে সুস্থ থাকতে কী খাবেন আর কী এড়িয়ে চলবেন
গরমে সুস্থ থাকতে কী খাবেন আর কী এড়িয়ে চলবেন

প্রচণ্ড গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে খাবারের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি। পুষ্টিবিদদের মতে, গরমের দিনে সঠিক খাবার বেছে নিলে তা শরীরে শক্তি জোগায় ও শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। তবে গরমে ক্ষুধা কম লাগে, কারণ খাবার হজমের সময় শরীরে অতিরিক্ত তাপ উৎপন্ন হয়। ২০১৮ সালে ‘পিএলওএস বায়োলজি’ জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাসে তাপসংবেদী প্রোটিন তাপমাত্রা বাড়লে সক্রিয় হয়ে পেট ভরা কৃত্রিম অনুভূতি তৈরি করে।

গরমে কী এড়িয়ে চলবেন

গরমে সুস্থ থাকতে বেশি তেল-চর্বিযুক্ত ও ভারী খাবার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া ভালো। চর্বি ও অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত খাবার হজম করতে পরিপাকতন্ত্রকে বেশি খাটতে হয়, ফলে শরীরের ভেতরে অতিরিক্ত তাপ তৈরি হয়। এতে অলসতা ও ক্লান্তি লাগে। তাই ভারী খাবারের বদলে অল্প করে হালকা খাবার খাওয়া উচিত। চিপস বা প্রক্রিয়াজাত মাংসের মতো অতিরিক্ত লবণাক্ত খাবার শরীরে লবণের পরিমাণ বাড়িয়ে দ্রুত পানি বের করে দেয়।

ঠান্ডা কোমল পানীয়, কফি বা আইসড টি-তে থাকা ক্যাফেইন বা কৃত্রিম উপাদান শরীর থেকে পানি বের করে দেয়, ফলে পানিশূন্যতা বাড়ে। বেশি চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার ও অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার বা পানীয় পরিপাক ক্রিয়ায় সমস্যা তৈরি করে। চর্বিযুক্ত খাবার হজমে সময় নেয়, যা শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা বাড়ায়। অতিরিক্ত চিনি শরীরের কোষ থেকে পানি টেনে নেয়, ফলে তৃষ্ণা বাড়ে। তাই বোতলজাত চিনিযুক্ত পানীয় বা অতিরিক্ত আইসক্রিম না খেয়ে ঘরে তৈরি ফলের রস মিশিয়ে পানীয় বা তাজা ফলের আইসপপ খাওয়া স্বাস্থ্যকর।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গরমে কী খাবেন

গরমে মাংসের পরিবর্তে ডিম, মাছের মতো কম চর্বির প্রোটিন খাওয়া উচিত। সবজিও প্রোটিনের ভালো উৎস, যা সহজে হজম হয়। তবে পচনশীল খাবার ৪০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের নিচে ঠান্ডা রাখা উচিত এবং এক ঘণ্টার বেশি বাইরে ফেলে রাখা যাবে না।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গরমে কী খাচ্ছি তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ কী পান করছি। সাধারণত দিনে ৮-১২ গ্লাস পানি পান করা ভালো, তবে তাপমাত্রা বেড়ে গেলে ও বেশি ঘাম হলে পানির চাহিদা বেড়ে যায়। তাই তৃষ্ণা না পেলেও সারা দিন অল্প অল্প করে পানি পান করা উচিত।

ইলেকট্রোলাইটের গুরুত্ব

গরমে শরীর থেকে পানি ও ইলেকট্রোলাইট বেরিয়ে যায়। ইলেকট্রোলাইট হলো সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো খনিজ, যা স্নায়ু ও পেশির সচলতা, পুষ্টির পরিবহন ও শক্তি উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করে। গরমে শরীর থেকে ইলেকট্রোলাইট দ্রুত বের হওয়ায় ডাবের পানি, তরমুজ বা কমলার রসের মতো প্রাকৃতিক পানীয় সাহায্য করে। তাজা ফলমূল ও শাকসবজি পানি ও ইলেকট্রোলাইটের বড় উৎস; তরমুজে ৯০ শতাংশ ও শসায় প্রায় ৯৭ শতাংশ পানি থাকে। ফলের স্মুদি বা জুস বানিয়ে খাওয়া যেতে পারে, যা আইসক্রিম বা মিল্কশেকের অতিরিক্ত চিনি ও চর্বির ক্ষতি ছাড়া শরীর ঠান্ডা রাখে।

অনেকে মনে করেন গরমে ঝাল বা মসলাদার খাবার ঘাম ঝরিয়ে শরীর ঠান্ডা করে। তবে শরীরে পর্যাপ্ত পানি না থাকলে মসলাদার খাবার পেটে অস্বস্তি বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা তৈরি করতে পারে।

সূত্র: টাইম ম্যাগাজিন