ব্যস্ত রাস্তার ধারের দোকান থেকে শুরু করে পারিবারিক উৎসব; সারা ভারতেই কাবাবের জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। তবে ভারতের এমন একটি শহর রয়েছে, যেখানে কাবাব কেবল একটি জনপ্রিয় খাবারই নয়, বরং সেটি সেই শহরের নিজস্ব পরিচয়ের অংশ। শত শত বছরের রন্ধন ঐতিহ্য, রাজকীয় প্রভাব এবং দক্ষ বাবুর্চিদের মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা এই শহরটি অবলীলায় জিতে নিয়েছে ভারতের ‘কাবাব রাজধানী’র খেতাব। এই অনন্য শহরটি হলো লক্ষ্ণৌ।
নবাবি ঐতিহ্যের স্বাদ
নবাবদের শহর লক্ষ্ণৌয়ের এই সুনামের মূলে রয়েছে আওধ অঞ্চলের সমৃদ্ধ রন্ধন ঐতিহ্য। সে আমলে নবাবদের রাজকীয় রান্নাঘরে ‘রাকাবদার’ নামে পরিচিত অত্যন্ত দক্ষ বাবুর্চিরা কাজ করতেন, যারা স্বাদ, সুগন্ধ ও মোলায়েম টেক্সচারের নিখুঁত ভারসাম্য তৈরিতে বছরের পর বছর গবেষণা করতেন।
মসলা ও পোড়া গন্ধের চেয়েও লক্ষ্ণৌয়ের কাবাবের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর পরিমার্জিত রূপ। নিখুঁত কিমা, জাদুকরী ম্যারিনেশন এবং ধিমে আঁচে কাঠকয়লার গ্রিল করার ঐতিহ্য আজও শহরটিকে অনন্য করে রেখেছে। খাবারের এই রাজকীয় আভিজাত্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৫ সালের অক্টোবরে ইউনেস্কো লক্ষ্ণৌকে তাদের ক্রিয়েটিভ সিটিজ নেটওয়ার্ক-এ বিশ্বের অন্যতম সেরা রন্ধনশিল্পের শহর হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
কিংবদন্তি কাবাবের তালিকা
লক্ষ্ণৌয়ের বিশাল কাবাব সাম্রাজ্যের মধ্যে কয়েকটি আইটেম কিংবদন্তির মর্যাদা পেয়েছে। এর মধ্যে এক নম্বরেই রয়েছে বিখ্যাত গালোটি কাবাব, যা মুখে দিলেই একদম মিলিয়ে যায়। এ ছাড়া রয়েছে সুক্ষ্ম মসলার কাকোরি কাবাব, ডাল ও কিমার মিশ্রণে তৈরি শামি কাবাব এবং কাঠকয়লায় পোড়ানো রসালো বটি কাবাব।
ঐতিহ্যের সন্ধানে ভ্রমণ
খাঁটি আওধী স্বাদের খোঁজে পর্যটকরা ভিড় জমান শহরের ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীন এলাকা চক এবং আমীনাবাদ-এর গলিতে। আর যারা আধুনিক পরিবেশে ঐতিহ্যবাহী স্বাদ নিতে চান, তাদের পছন্দ হজরতগঞ্জ ও গোমতী নগর। তবে লক্ষ্ণৌ শুধু কাবাবেই সীমাবদ্ধ নয়; আওধী বিরিয়ানি, নিহারি, কুলচা, শিরমাল আর জমজমাট স্ট্রিট ফুড কালচার মিলিয়ে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার এক অপূর্ব মিশেলে আজও ভারতের বুকেই সগৌরবে কাবাব রাজধানী’র মুকুট পরে আছে লক্ষ্ণৌ।
সূত্র: এনডিটিভি



