ওমানের আলোচনার আগে ইরানের কাছে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ ও হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার প্রকাশ্য প্রতিশ্রুতি চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরান হামলাকে ‘ভুল’ বলে স্বীকার করলেও যুক্তরাষ্ট্র শর্তে অটল।
আলোচনার আগে যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত
শনিবার ওমানে অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালানো বন্ধের প্রকাশ্য প্রতিশ্রুতি এবং হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার ঘোষণাকে প্রধান শর্ত হিসেবে তুলে ধরবে ওয়াশিংটন। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরানের নেতৃত্বের কাছে বার্তা পাঠানো হয়েছে। রয়টার্সের উদ্ধৃতিতে এক কর্মকর্তা বলেন, ‘তারা হয় আমাদের সেই বিবৃতি দেবেন, না হলে তাদের জন্য ফল ভালো হবে না।’
ইরানের ‘ভুল’ স্বীকার
মার্কিন গণমাধ্যমে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইরান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টাদের ব্যক্তিগতভাবে জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালানোর ঘটনাটি ছিল ‘ভুল’। তেহরানের দাবি, এ ঘটনার জন্য দায়ী ছিল তাদের অভ্যন্তরের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা একটি গোষ্ঠী। সিবিএস নিউজকে জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, ইরান দাবি করেছে যে, একদল ‘বিচ্যুত’ কট্টরপন্থি আলোচনাকে ভণ্ডুল করার উদ্দেশ্যে বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালিয়েছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘তারা (ইরান) আলোচনায় ফিরে এসে বলেছে, আমরা ভুল করেছি। এটি আমাদের ভুল ছিল। চলুন, আলোচনা চালিয়ে যাই।’
পটভূমি ও সাম্প্রতিক সংঘাত
গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি করে। ওই চুক্তির অংশ হিসেবে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়ে সম্মত হয় ইরান। তবে সপ্তাহের শুরুতে উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘর্ষ শুরু হয়, যা জুনে অন্তর্বর্তী চুক্তি হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। ওমানের জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের সুপারিশ করা নৌপথ ব্যবহার করার সময় তিনটি জাহাজ হামলার শিকার হয়। অন্যদিকে ইরান বারবার দাবি করে আসছে, তাদের জলসীমা দিয়ে নির্ধারিত বিকল্প পথই একমাত্র নিরাপদ রুট।
আলোচনার প্রতিনিধি ও কাতারের মধ্যস্থতা
ওমানের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের। এদিকে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা প্রশমিত করা এবং নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে শুক্রবার কাতারের একটি প্রতিনিধি দল ইরান সফর করেছে।
ট্রাম্পের বক্তব্য ও যুদ্ধবিরতি শেষ
শুক্রবার নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান আমাদের কাছে আবারও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছে। আমরা তাতে সম্মত হয়েছি। তবে আমরা তাদের স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছি, যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে গেছে।’ শুক্রবার নতুন কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি।
সমঝোতা স্মারক ও ভবিষ্যৎ প্রশাসন
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারকে (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) সম্মত হয়। এর লক্ষ্য ছিল যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করা এবং ‘সব ফ্রন্টে’ সংঘাতের অবসান ঘটানো। সমঝোতা অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ প্রশাসন ও সামুদ্রিক সেবার কাঠামো নিয়ে ইরান, ওমান এবং উপসাগরীয় অন্যান্য দেশের মধ্যে আলোচনা হবে। সংঘাত চলাকালে ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের সার্বভৌম কর্তৃত্ব জোরালোভাবে তুলে ধরে এবং ‘পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষ’ নামে একটি সংস্থা গঠনের ঘোষণা দেয়, যা ‘সেফ প্যাসেজ পারমিট’ ইস্যু করবে। ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্সের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন সমঝোতার আওতায় ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা ইরান ও ওমান সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিচালনা করবে এবং প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের কাছ থেকে সম্ভাব্য সেবা ফি আদায়ের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।



