গাজীপুর বন্ধুসভা দেশীয় মৌসুমি ফলের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি, পুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বন্ধুত্বের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয়ে ফল উৎসব আয়োজন করেছে। ৪ জুলাই সকাল ১০টায় নগরীর ফেভারিট ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল অডিটোরিয়ামে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
উৎসবে দেশীয় ফলের সমারোহ
উৎসবে ছিল আম, জাম, কাঁঠাল, কলা, আনারস, লটকন, কামরাঙা, আমড়া, সফেদা, পেয়ারাসহ নানা ধরনের দেশীয় ও মৌসুমি ফল। রঙিন ফলের বাহার আর মিষ্টি সুবাসে পুরো অনুষ্ঠানস্থল হয়ে ওঠে প্রাণচঞ্চল ও উৎসবমুখর।
সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও স্মৃতিচারণা
স্মৃতিচারণা, কবিতা আবৃত্তি, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও বন্ধুত্বের উচ্ছ্বাসে উৎসবটি পায় ভিন্ন মাত্রা। সাংস্কৃতিক পর্বে একক নৃত্য পরিবেশন করেন বন্ধু রোকেয়া আক্তার ও দপ্তর সম্পাদক মারফুয়া সিয়াম। বন্ধু শৈশব আন্তুনি কোড়াইয়া ও আব্দুল কাইয়ুমের কণ্ঠে গান দর্শকদের মুগ্ধ করে। কবিতা আবৃত্তি করেন ম্যাগাজিন সম্পাদক বিজয় মিয়া।
বক্তাদের মতামত
ফেভারিট ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের প্রতিষ্ঠাতা ও বন্ধুসভার উপদেষ্টা আবু বক্কর সিদ্দিক রাব্বি বলেন, ‘দেশীয় মৌসুমি ফল আমাদের জাতীয় সম্পদ। এগুলো পুষ্টিগুণে ভরপুর এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তরুণদের জাঙ্ক ফুডের পরিবর্তে দেশীয় ফল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এমন উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল করে তুলবে।’
বন্ধুসভার উপদেষ্টা ও শিক্ষক মাধব চন্দ্র মন্ডল বলেন, ‘ফল উৎসব আমাদের সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য সচেতনতা ও সামাজিক সম্প্রীতির একটি চমৎকার উদাহরণ। এমন আয়োজন নতুন প্রজন্মকে দেশীয় ফলের প্রতি আগ্রহী করে তুলবে এবং সুস্থ সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখবে। একজন তরুণকে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে বন্ধুসভা সেই সুযোগ সৃষ্টি করছে।’
গাজীপুর বন্ধুসভার সভাপতি বাবুল ইসলাম বলেন, ‘ফল উৎসব শুধু একটি আনন্দঘন আয়োজন নয়; এটি সুস্থ জীবন, পুষ্টি সচেতনতা এবং পারস্পরিক সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার সুন্দর উদ্যোগ।’
সফল আয়োজনের কৃতিত্ব
সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন বলেন, ‘বন্ধুদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও আন্তরিক সহযোগিতার কারণেই আজকের আয়োজন সফল হয়েছে। ভবিষ্যতেও আমরা সমাজকল্যাণ, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে আরও ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন করতে চাই।’
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সম্পাদক মো. ইসমাইল বলেন, ‘প্রত্যেক বন্ধুর আন্তরিক সহযোগিতা ও পরিশ্রমের ফলেই আজকের সুন্দর আয়োজন সম্ভব হয়েছে।’
প্রচার সম্পাদক টুটুল সিকদার বলেন, ‘বন্ধুসভার মঞ্চে নিজের প্রতিভা উপস্থাপন করতে পেরে আমি আনন্দিত। এমন আয়োজন আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।’
বন্ধু আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ‘গানের মাধ্যমে সবার সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে পেরে খুব ভালো লেগেছে। বন্ধুসভার প্রতিটি আয়োজন আমাদের অনুপ্রেরণা জোগায়।’
পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘কবিতা মানুষের অনুভূতির ভাষা। আজকের এই সুন্দর পরিবেশে আবৃত্তি করতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বন্ধুরা
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি জহিরুল ইসলাম ও আশিকুল ইসলাম খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদা সুলতানা, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মনসুরুল হক মৃদুল, অর্থ সম্পাদক সামিউল ইসলাম, জেন্ডার ও সমতাবিষয়ক সম্পাদক রাবেয়া আক্তার, প্রশিক্ষণ সম্পাদক শাহরিয়ার মন্ডল, স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া সম্পাদক ইতিহাস সরকার, মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক তামিম মল্লিক, কার্যনির্বাহী সদস্য ইয়াকিনুর ইসলাম ভূঁইয়া, বন্ধু হাসিবুল ইসলাম, মাহামুদুর হাসান, মো. জাহিদ, বুলবুল আহামেদ, মোবারক হোসেন, রিতি মনি, জেসমিন আক্তার, হুমাইরা সুমি, সাইদুল রহমান, মারুফ আল গালিব, মাহামুদুর হাসান, মোস্তাফিজ রহমান, লিমা পাখি, মওদুদ আহমেদ, সিমুল সিকদার, আসাদুজ্জামান, শাওন আহামেদ, মোসা. মিমি, খাদিজা আক্তার, বৃষ্টি আক্তারসহ অন্য বন্ধুরা।



