ফ্রিজে রাখা খাবারের গন্ধ ঠিক থাকলেও তা পচে যেতে পারে। ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়া তৈরি হতে পারে। তাই বাসি রান্নার ঝুঁকি এড়াতে দ্রুত ফ্রিজে রাখা, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খাওয়া এবং ভালোভাবে গরম করা ভীষণ জরুরি। স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে ৩-৪ দিনের বেশি পুরোনো খাবার না খাওয়া এবং সঠিক উপায়ে তা সংরক্ষণ করা জরুরি।
ফ্রিজের খাবারের সময়সীমা
মনে রাখতে হবে, ফ্রিজের খাবার পচে যাওয়ার গতি শ্লথ করতে পারে ঠিকই, কিন্তু তারও সময়সীমা রয়েছে। দিনের পর দিন ফ্রিজবন্দি থাকলেও অনেক সময়ে খাবার নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তখন সেই খাবারই নানা রোগের কারণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘরে রান্না করা বেশিরভাগ খাবার ফ্রিজে ৩-৪ দিন পর্যন্ত ভালো থাকে। এর মধ্যে ভাত, ডাল, তরকারি, মুরগির মাংস, মাছ কিংবা অন্যান্য রান্না করা পদও পড়ে। চার দিনের বেশি হয়ে গেলে খাবার দেখতে বা গন্ধে ঠিক লাগলেও মান ভালো থাকে না। এতে আপনার শরীরে রোগবালাই আক্রমণের সুযোগ থাকে।
খাবার সংরক্ষণের ভুলভ্রান্তি
- যে কোনো খাবার সারারাত বাইরে রাখবেন না। তাতে ব্যাক্টেরিয়া জন্মানোর গতি বেড়ে যায়।
- খাবারের রঙ, স্বাদ, গন্ধ বা গঠন সামান্য পাল্টে গেলেই সেটি ফেলে দিন।
- টাটকা রান্না ও বাসি খাবার কখনো এক পাত্রে রাখবেন না। সে ভাত-ভাজা যাই হোক কেন কিংবা রুটি-তরকারি হোক।
- ফ্রিজে অতিরিক্ত কিছু রাখবেন না। তাতে সব খাবারে ঠান্ডা সমানভাবে পৌঁছাতে পারে না।
খাবার সংরক্ষণের সঠিক নিয়ম
- রান্না হওয়ার পর দীর্ঘক্ষণ ঘরের তাপমাত্রায় ফেলে রাখা ঠিক নয়। সম্ভব হলে দুই ঘণ্টার মধ্যে খাবার ঠান্ডা করে ফ্রিজে তুলে রাখুন। বাইরে খুব গরম থাকলে দুই ঘণ্টাও অপেক্ষা করা উচিত নয়। তার আগে ফ্রিজে রেখে দিন।
- খাবার রাখার পাত্রও সঠিক হওয়া উচিত। পরিষ্কার, বায়ুনিরোধী পাত্রে খাবার রাখলে তা বেশি দিন টাটকা থাকে। এ ছাড়া অন্য খাবারের গন্ধের সঙ্গে সেই খাবারের গন্ধ মিশতে পারবে না। এর ফলে ফ্রিজের ভেতরে খাবার খুব দ্রুত ঠান্ডা হতে পারে।
- ফ্রিজে রাখার ২-৩ দিনের মধ্যেই খাবার শেষ করার চেষ্টা করুন। অনেক দিন ধরে কোনো খাবার ফ্রিজে জমে রয়েছে। কিন্তু তার রঙ ও গঠন বদলায়নি বলে ভাবছেন— পচেনি। সেখানেই ভুল হয়ে যায়। সবসময়ে যে ব্যাক্টেরিয়া তৈরি হওয়ার ঘটনা চোখে পড়ে, তা নয়। তাই বেশি দিন খাবার জমিয়ে না রাখাই ভালো।
- যদি মনে হয় কয়েক দিনের মধ্যে খাবার শেষ করা সম্ভব হবে না, তাহলে ফ্রিজারের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। ফ্রিজারে খাবার তুলনায় অনেক বেশি দিন টাটকা থাকে। তবে সে ক্ষেত্রেও সময়সীমা রয়েছে।
- বারবার একই খাবার ফ্রিজ থেকে বের করে গরম করা, তারপর ঠান্ডা করে আবার ফ্রিজে রাখা ঠিক নয়। এতে জীবাণু বৃদ্ধির ঝুঁকি বেড়ে যায়। যতটা প্রয়োজন, ততটাই আলাদা করে গরম করা ভালো। অথবা একই খাবার ছোট ছোট পাত্রে ভাগ করে রাখতে পারেন। একবেলায় একটি পাত্র বের করে গরম করে নেবেন। ফলে বাকিটুকু ফ্রিজেই থাকবে। বারবার তাপমাত্রা বদলাবে না।


