রমজানে ফলের বাজারে আগুন, ক্রেতাদের নাগালের বাইরে সব ফল
রমজানে ফলের দামে আগুন, ক্রেতাদের নাগালের বাইরে

রমজানে ফলের বাজারে আগুন, ক্রেতাদের নাগালের বাইরে সব ফল

রমজানের শুরু থেকেই ফলের বাজারে দামে আগুন লেগেছে। দিন দিন সেই আগুন আরও উত্তপ্ত হচ্ছে, যার ফলে খেজুর, আপেল, কমলা, আঙুরসহ প্রায় সব ধরনের ফলের দামই ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে। ঢাকার লক্ষ্মীবাজার, রায়সাহেব বাজারসহ বিভিন্ন ফলের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ফলের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে।

ফলের দামের হালচাল

শুক্রবার (৬ মার্চ) ঢাকার কয়েকটি বাজারে ফলের দামের একটি চিত্র উঠে এসেছে। কমলার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকায়, মাল্টা ৩০০ টাকা, সাদা আঙুর ৪০০ টাকা, আপেল ৩৬০ টাকা, নাশপাতি ৪০০ টাকা, আনার ৪৮০ টাকা, কালো আঙুর ৫৫০ টাকা, পেঁয়ারা ১২০ টাকা, পেঁপে ১৫০ টাকা এবং বড়ই ১০০ টাকা কেজি দরে।

খেজুরের বাজারে অবস্থা আরও ভয়াবহ। মেখজুল খেজুর কেজি ১ হাজার ৬০০ টাকা, মরিয়ম খেজুর ৯০০ টাকা এবং বিভিন্ন ধরনের তিউনিসিয়ান খেজুর ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গত কয়েক দিনে খেজুরের দাম কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানা গেছে।

দাম বৃদ্ধির কারণ

দাম বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে রায়সাহেব বাজারের খেজুর বিক্রেতা সাত্তার বলেন, "বিভিন্ন কারণে দাম বাড়ে, আমরা বাড়াই না। যারা পাইকারি বিক্রেতা তারাই বাড়ায় বিভিন্ন কারণে।" সদরঘাটের বাদামতলীর খুচরা ও পাইকারি খেজুর বিক্রেতা তাওয়াককুল এন্টারপ্রাইজের মালিক সুমন বলেন, "খেজুরের সরবরাহ হঠাৎ কমে গেছে। এ জন্য কিছু জাতের খেজুরের দাম বেড়ে গেছে। পোর্ট থেকে মাল ডেলিভারি না হওয়ার কারণে এ সমস্যা হয়েছে।"

পুরান ঢাকার বাদামতলীতে খেজুর কিনতে আসা সাকিব নামে এক ক্রেতা জানান, "রমজানের প্রথমে খেজুরের দাম বাড়ে। আজ এসে দেখি কেজিতে আরও ৫০ টাকার বেশি বেড়ে গেছে। এটা নিয়ন্ত্রণ করা দরকার।"

অন্যান্য ফলের অবস্থা

কলার বাজারে দেখা গেছে, দেশি কলার ডজন ১২০ টাকা, সবরি কলা ১৮০ টাকা এবং সাগর কলার দাম ডজনপ্রতি ১০০ টাকা। লক্ষ্মীবাজারের কলা বিক্রেতা জয়নাল আবেদীন জানান, "ফলন কম হওয়ায় কলার এত দাম।"

এছাড়া নতুন তরমুজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকায় এবং প্রতিপিচ ৩০০ টাকা করে। রায়সাহেব বাজারের হারুন ফুডসের মালিক হারুন জানান, "সিজন এলে তরমুজের দাম কমে যাবে। তবে অন্যান্য ফলের দাম যুদ্ধের কারণে আরও বাড়বে।"

তার দোকানে আপেলের মধ্যে ফুজি আপেল প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং অস্ট্রেলিয়ান আপেল ৩২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বিদেশি গ্রিন আপেলের কেজি ৪০০ টাকা। বিদেশি ফলের মধ্যে কমলার দাম ও আকৃতিভেদে ভিন্নতা দেখা গেছে। ছোট কমলা ৩০০ টাকা, বড় কমলা ৩৫০ টাকা এবং দেশি কমলা ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ফলের দামের এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ক্রেতাদের জন্য বড় চাপ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরবরাহ সমস্যা এবং বাজার নিয়ন্ত্রণের অভাবই এর মূল কারণ।