রাজশাহীতে রোজার আগেই গরুর মাংসের দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি
রাজশাহীতে রোজা মাস আসতে না আসতেই গরুর মাংসের দাম কেজিতে ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। ইতিমধ্যে স্থানীয় বাজারে বিক্রেতারা বাড়তি দামের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছেন, যা ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। আজ বুধবার সকালে রাজশাহীর নিউমার্কেট ও সাহেব বাজার এলাকায় ঘুরে এই দামের পরিবর্তন স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা গেছে।
বাজারে দামের হঠাৎ পরিবর্তন
রাজশাহীর নিউমার্কেট এলাকায় গরুর মাংসের দোকানগুলোতে এখন সাইনবোর্ডে প্রতি কেজি ৮০০ টাকা দাম উল্লেখ করা হয়েছে। একই সারিতে অবস্থিত চার থেকে পাঁচটি দোকানেও একই দাম দেখা যাচ্ছে। আগে যেখানে মাংসের দাম কেজিতে ৭৫০ টাকা ছিল, সেখানে এখন তা ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকায় পৌঁছেছে। সাহেব বাজার ও নিউমার্কেটের মধ্যে দামের পার্থক্য কেজিতে ২০ টাকা কম–বেশি হতে পারে বলে জানা গেছে।
দোকানের মালিক মনিরুল ইসলাম বলেন, গত শুক্রবার থেকে তারা নতুন দামে মাংস বিক্রি করছেন। তিনি উল্লেখ করেন, তারা নিজেরাই কম দামে বাজার থেকে গরু কিনতে পারছেন না। গরু কেনার সময় এখন সারচার্জ দিতে হচ্ছে, যেমন রাজশাহী সিটি হাটে ৮০০ টাকা এবং তানোর চৌবাড়িয়া হাটে ৯০০ টাকা, যা আগে ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা ছিল। এছাড়া, খড়ের দাম বেড়ে যাওয়ায় গরু পালনের খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিক্রেতা ও ভোক্তাদের প্রতিক্রিয়া
একরাম হোসেন নামের একজন খুচরা বিক্রেতা বলেন, তিনি পাইকারি দামেই এখন কেজিতে ৭৫০ টাকা দিয়ে মাংস কিনছেন, তাই লাভের জন্য দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন। অন্যদিকে, একজন স্কুলশিক্ষক, যিনি নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক, বলেন তিনি রোজার মধ্যে দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আগেই বেশি করে মাংস কিনতে এসেছিলেন, কিন্তু ইতিমধ্যেই দাম বেড়ে গেছে দেখে হতাশ হয়েছেন। তিনি এখন প্রয়োজনমতো টাটকা মাংস কিনে খাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
কর্মকর্তাদের বক্তব্য ও ব্যবস্থা
রাজশাহী জেলার জ্যেষ্ঠ কৃষি বিপণন কর্মকর্তা সানোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, গরুর মাংসের দাম ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকার বেশি হওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই, কারণ এটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য। তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন যে কিছু ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃতভাবে দাম বাড়িয়েছেন এবং এ ব্যাপারে ভোক্তা অধিকারের কর্মকর্তার সাথে কথা বলবেন বলে জানান। গত বছর মাংসের উৎপাদন মূল্য থেকে বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হলেও এ বছর এমন কোনো নির্দেশনা নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কৃষি বিপণন কর্মকর্তার বক্তব্যের পর দুপুরে নিউমার্কেটে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের একটি অভিযানে একটি দোকানের মালিককে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এদিকে, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উদ্যোগে রমজান মাসে গরুর মাংস ৬৫০ টাকা কেজিতে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা ৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সভায় গৃহীত হয়। এই সিদ্ধান্ত রাজশাহীতে বাস্তবায়ন করা হবে কি না, তা নিয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আতোয়ার রহমানের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
সামগ্রিকভাবে, রাজশাহীতে গরুর মাংসের দাম বৃদ্ধি ভোক্তাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, এবং কর্তৃপক্ষের তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হবে, তা এখন দেখার বিষয়।
