গরমের তীব্রতা বাড়তেই ঘাম ও ঘামের দুর্গন্ধে নাজেহাল হয়ে পড়েন অনেকেই। ঘামে জামা ভিজে যাওয়ার পাশাপাশি অস্বস্তিকর দুর্গন্ধ তৈরি হওয়ায় সামাজিক পরিস্থিতিতেও বিব্রত হতে হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু সুগন্ধি ব্যবহার করলেই এ সমস্যার সমাধান হয় না, বরং সঠিক পরিচর্যা ও জীবনযাপনের অভ্যাস বদলেই এর থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
ঘাম ও দুর্গন্ধের কারণ
ত্বকে মূলত দুই ধরনের ঘামগ্রন্থি থাকে—অ্যাকরিন ও অ্যাপোক্রিন গ্রন্থি। অ্যাকরিন গ্রন্থি শরীরচর্চা বা শারীরিক পরিশ্রমের সময় ঘাম তৈরি করে, যা গন্ধহীন এবং শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে অ্যাপোক্রিন গ্রন্থি বগল ও গোপনাঙ্গের আশপাশে সক্রিয় থাকে। এতে থাকা প্রোটিন ত্বকের ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে এসে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে।
গরমকালে শরীরের ঘাম থেকে ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণও দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে শরীরের ভাঁজ যেমন বগল, ঘাড় ও কুঁচকিতে এসব সংক্রমণ বেশি হয়। ফলে ঘামাচি ও চর্মরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
খাদ্যাভ্যাসের প্রভাব
বিশেষজ্ঞরা জানান, সালফারসমৃদ্ধ খাবার যেমন লাল মাংস, ডিম, পেঁয়াজ, রসুন ও ব্রকলি বেশি খেলে শরীরের দুর্গন্ধ বাড়তে পারে। এছাড়া অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন ও মানসিক চাপও ঘামের গন্ধ বাড়ায়।
সমাধান
গরমে দিনে অন্তত দুইবার গোসল করার পরামর্শ দেওয়া হয়। গোসলের সময় অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান বা শাওয়ার জেল ব্যবহার করলে ব্যাকটেরিয়া দূর হয়। কেউ কেউ পানিতে লেবুর রস বা এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে গোসল করেন, যা দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।
এছাড়া অ্যাপেল সিডার ভিনেগার আন্ডারআর্মে ব্যবহার করলে ব্যাকটেরিয়া কমে এবং দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণে থাকে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। ঘামের পরিমাণ কমাতে ও শরীরের গন্ধ নিয়ন্ত্রণে ডায়েট ও পর্যাপ্ত পানি পান করাও গুরুত্বপূর্ণ।
চিকিৎসকদের মতে, শুধু সুগন্ধি নয়, বরং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সঠিক খাদ্যাভ্যাসই ঘামের দুর্গন্ধ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।



