পশ্চিমবঙ্গে ফুচকাগ্রাম: ১০ রুপিতে ১২ ফুচকা, ১০০ স্বাদের বৈচিত্র্য
পশ্চিমবঙ্গে ফুচকাগ্রাম: ১০ রুপিতে ১২ ফুচকা

চকলেটপ্রেমীদের কাছে উইলি ওয়াঙ্কা আর তার চকলেটের কারখানার গল্প যেমন এক জাদুকরি স্বপ্ন, ফুচকাপ্রেমীদের জন্য ঠিক তেমনই এক বাস্তব জাদুর জগৎ গড়ে উঠেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে। রাজ্যটির উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়ার কাছে অবস্থিত ‘শহীদ পল্লী’ নামের একটি ছোট গ্রাম এখন ‘ফুচকাগ্রাম’ নামে পরিচিত। কলকাতার কেন্দ্রস্থল থেকে প্রায় ৪৫-৫০ কিলোমিটার দূরের এই গ্রামের অন্তত ১০০টি পরিবার প্রতিদিন ফুচকা তৈরি ও বিক্রির ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

শহরে যেখানে পাঁচ-ছয়টি গোলগাপ্পা বা পানিপুরি কিনতে ১০০ রুপি পর্যন্ত লেগে যায় (অভিজাত পাঁচতারা রেস্তোরাঁয় যা হতে পারে ৬০০ রুপি), সেখানে এই ফুচকাগ্রামে মাত্র ১০ রুপিতে মিলছে ১০ থেকে ১২টি ফুচকা! মূল্যস্ফীতির আঁচ যেন এই গ্রামের ফুচকার গলিতে এখনও এসে পৌঁছায়নি। আটা ও সুজি দিয়ে তৈরি মুচমুচে ফুচকার খোলস, তেঁতুলের টক জল আর মশলাদার আলুর পুরের চেনা ফুচকার পাশাপাশি এই গ্রাম এখন হরেক রকমের ফিউশন ফুচকার এক বিশাল মহাবিশ্ব।

ফুচকাগ্রামের দৈনন্দিন জীবন

ফুচকাগ্রামের দিন শুরু হয় ভোর ৪টায়। ময়দা মাখা, লেচি কাটা, শুকানো এবং ব্যাচ ধরে ভাজা সব কাজই পরিবারের সদস্যরা মিলে হাতে করেন। গড়ে প্রতিটি পরিবার দিনে ৮ হাজার থেকে ১২ হাজার পর্যন্ত ফুচকা তৈরি করে, যা কলকাতা, ব্যারাকপুর, নৈহাটি এবং কল্যাণীর মতো কাছাকাছি অঞ্চলগুলোতে সরবরাহ করা হয়। পুরুষেরা সাধারণত দুপুরের পর ঐতিহ্যবাহী টক-ঝাল-মিষ্টি ফুচকা বিক্রি করতে আশপাশের বাজারে যান, আর নারীরা গ্রামের ভেতরেই পরিচালনা করেন রকমারি নিরীক্ষাধর্মী ফুচকার দোকান।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ফুচকার বৈচিত্র্য ও দাম

এখানে ফুচকার বৈচিত্র্য দেখলে যে কারও মাথা ঘুরে যেতে পারে। ঐতিহ্যবাহী আলুর পুরের বাইরে এখানে মিলছে চিকেন ফুচকা, মাটন ফুচকা, চিংড়ি ফুচকা, ফিশ ফুচকা, চাটনি ফুচকা, চকোলেট ফুচকা, দই ফুচকা, কর্ন ফুচকা, এমনকি জেলি ও আইসক্রিম ভরা ফুচকাও! কোনও কোনও দোকানদার তো ১০০টিরও বেশি স্বাদের ফুচকা বিক্রির দাবি করেন। এখানকার আমিষ ফুচকার দাম ৪০ থেকে ৮০ রুপি এবং ডেজার্ট ধাঁচের ফুচকার দাম সাধারণত ৫০ রুপির কাছাকাছি, যা শহরের তুলনায় বেশ সাশ্রয়ী।

ফুচকাগ্রামের উত্থান ও পর্যটন

একসময়ের অপরিচিত এই ‘শহীদ পল্লী’ গ্রামের প্রায় প্রতিটি পরিবার ফুচকা বানিয়ে জীবিকা নির্বাহ শুরু করায় ধীরে ধীরে এর নাম হয়ে যায় ‘ফুচকাগ্রাম’। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ফুড ইনফ্লুয়েন্সারদের কল্যাণে এটি পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়। পাশাপাশি কাছেই অবস্থিত রানী রাসমণি ঘাট ও মন্দির কমপ্লেক্সের জনপ্রিয়তার কারণে সেখানে আসা দর্শনার্থীদের জন্য ফুচকাগ্রামে ঢুঁ মারা এখন প্রায় বাধ্যতামূলক। আপনি সনাতনী টক-ঝাল ফুচকার ভক্ত হন কিংবা চকোলেট ফুচকা চেখে দেখতে চাওয়া কৌতূহলী মানুষ; প্রতিটি গলিতে টাটকা ভাজা ফুচকার সুবাস ছড়ানো এই গ্রামে এলে এক অদ্ভুত আনন্দ মিলবেই।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে