ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ন্যায্যমূল্য না পেয়ে রাস্তায় ফেলে রাখা হচ্ছে কোরবানির পশুর চামড়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রাস্তায় ফেলে রাখা হচ্ছে কোরবানির চামড়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য না পেয়ে শহরের প্রধান সড়কের পাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলে রেখে চলে গেছেন ব্যাপারীরা। এতে কাঁচা চামড়া পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

চামড়ার দাম নির্ধারণ ও বাস্তবতা

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারের পক্ষ থেকে চলতি মাসের ১৩ মে চামড়া খাত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করে চামড়ার দাম নির্ধারণ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয় ৬২ থেকে ৬৭ টাকা, যা গত বছর ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। কিন্তু ঢাকার বাইরে চামড়ার বাজারের চিত্র ভিন্ন। এ বছর সিন্ডিকেটের কারণে মৌসুমি ব্যাপারীরা উচ্চ মূল্যে চামড়া কেনেন। এরপর ন্যায্যমূল্য না পেয়ে কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া রাস্তায় স্তূপ আকারে ফেলে রেখে চলে যায়।

দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ পথচারীরা

শহরের পুরাতন কোর্ট রোড, পৌর সুপার মার্কেট, পূবালী ব্যাংক চত্বর, মঠের গোড়া এলাকায় ফেলে রাখা চামড়ার স্তূপ থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পথচারীসহ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শহরে আসা পথচারী ইমাম হোসেন জানান, এটা কোনো বিষয় হতে পারে না, এভাবে চামড়ার দাম না পেয়ে চামড়াগুলো পথে-ঘাটে ফেলে রেখে জনগণের দুর্ভোগ সৃষ্টি করবে, এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। পৌর কর্তৃপক্ষের উচিত এ বিষয়ে তড়িৎ ব্যবস্থা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া। অন্যথায় এই চামড়াগুলো আরও পচে মারাত্মক দুর্গন্ধ বাড়াবে।

অপর পথচারী ইউসুফ আলী জানান, চামড়ার সিন্ডিকেটের কাছে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা পরাজিত হয়ে এবং ন্যায্য দাম না পেয়ে চামড়াগুলো তারা ফেলে রেখে যায়। এটা মূলত সিন্ডিকেটের কারসাজি। তাই বুঝেশুনে চামড়া কেনা উচিত ছিল। এখন ফেলে রেখে এই মূল্যবান সম্পদকে পচনশীল সম্পদে পরিণত করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকরী পদক্ষেপ আশা করেন তিনি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ব্যবসায়ীদের প্রতিক্রিয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী বিল্লাল ভূঁইয়া বলেন, আমরা প্রতিবছরই এই মার্কেটের সামনে চামড়ার ব্যবসা বন্ধের জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়ে আসছি। কেউ কারও কথা শোনে না। তিনি বলেন, বিগত বছর দেখেছি চামড়ার দাম না পেয়ে পশুর চামড়াগুলোকে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে। এবার চিত্র ভিন্ন, কাঁচা চামড়ার দাম না পেয়ে ব্যাপারীরা রাস্তায় ফেলে রেখে চলে গেছেন। এখন দুর্ভোগে পড়েছি আমরা।

কুদ্দুস মিয়া নামে অপর ব্যবসায়ী জানান, সন্ধ্যার পর থেকে মৌসুমি ব্যাপারীরা চামড়া নিয়ে পুরাতন কোর্ট রোড, মঠের গোড়া, পৌর সুপার মার্কেটের সামনে এসে জড়ো হয়। মধ্যরাত পর্যন্ত কয়েল জ্বালিয়ে রাস্তার পাশে বসে ছিল চামড়া নিয়ে। তবে কাঙ্ক্ষিত ক্রেতা না পাওয়ার কারণে চামড়াগুলো সংরক্ষণ না করে রাস্তার পাশে এভাবেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলে রেখে চলে যায়।

শফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ী পথচারী জানান, পাট, চা, চামড়া আগে জানতাম রপ্তানি হতো। সেই হিসেবে এগুলো অর্থকরী পণ্য। কিন্তু আজকে রাস্তার ওপর চামড়ার যে অবস্থা দেখলাম, তাতে মনে হয় এগুলো পরিত্যক্ত এবং অর্থহীন পণ্য। সরকারের উচিত ছিল দাম নির্ধারণের পাশাপাশি চামড়ার বাজারগুলো মনিটরিং করা। যদি মনিটরিং করা হতো তাহলে এভাবে চামড়াগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাস্তার মোড়ে মোড়ে পড়ে থাকতো না।

প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি

এ বিষয়ে পৌর প্রশাসক শরিফুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ধরেননি। এতে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক আবু সাঈদের বক্তব্যও ফোন না ধরায় পাওয়া যায়নি।