কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের আলাউদ্দিন নগরে অবস্থিত আলাউদ্দিন আহমেদ ফাউন্ডেশনের খামারে রাখা হয়েছে ৫৬ মণ ওজনের বিশাল ষাঁড় ‘মানিক’কে। বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, টিনশেডের পাকা ঘরটিতে ফ্যানের নিচে রাখা হয়েছে গরুটিকে। খামারের কর্মচারী রেহেনা বেগম জানান, গত সোমবার টাঙ্গাইল থেকে গরুটি আনা হয়েছে এবং তাকে উন্নতমানের খাবার দেওয়া হচ্ছে।
খামারি হামিদার প্রতিক্রিয়া
খামারি হামিদা আক্তার মুঠোফোনে জানান, ‘আমার এতটুকুই লাভ হয়েছে যে কিছু ঋণ শোধ করতে পারছি। তারপরও আলহামদুলিল্লাহ। সব সময় ইচ্ছা ছিল ভালো একটা লোক পাইলে তার কাছে বিক্রি করব মানিককে। তাতে লস-লাভ দুই টাকা কমবেশি হোক। তবু কোনো ব্যাপারী কিংবা কসাইয়ের কাছে মানিককে বেচব না। ভালো লোকের কাছে বিক্রি করতে পেরে খুব খুশি।’ তিনি আরও জানান, গত বছর একজন ১৫ লাখ টাকা দাম বলেছিলেন। এবার একজন ১৮ লাখ টাকা হাঁকিয়ে আর ফিরে আসেননি। তাঁর ইচ্ছা ছিল ২০ লাখ টাকায় গরুটি বিক্রি করবেন। কিন্তু শেষ সময়ে বড় গরুর ক্রেতা না পাওয়ায় কম দামেই বিক্রি করতে হয়েছে।
দীর্ঘ ১০ বছরের লালন-পালন
হামিদা বলেন, ‘১০ বছর ধইরা পালন করতেছি। খরচের অর্ধেক টাকার চালান উঠে নাই। কষ্ট পরিশ্রম, রাতজাগা এগুলা তো সব বাদই। প্রতিদিন ১০ হালি করে বিচি কলা খায়। ৪ কেজি করে বুট খায়। ভুসি যতটুকু পারে। আর এক কেজি আতপ চালের ভাত খায়। অনেক টাকা ধারদেনা। তাই বিক্রি করে ঋণ শোধ দিছি। এখনো ঋণ আছে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা।’
হামিদার শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
খামারি হামিদা আক্তার স্নাতকে পড়ার সময় তাঁর মা মারা গেছেন। পরিবারে ছোট বোন আর বৃদ্ধ বাবা। বর্তমানে মাস্টার্সে পড়ছেন। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের এজেন্ট হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি বাড়ির খামার দেখাশোনা করছেন। তাঁর ইচ্ছা আছে একটা খামার করার।
ফাউন্ডেশনের উদ্যোগ
আলাউদ্দিন আহমেদ ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপক মোর্শেদ আলম বলেন, অনলাইনে নারী উদ্যোক্তা হামিদার অসহায়ত্বের বিষয়টি জানার পর ফাউন্ডেশন গরুটি কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। ঈদের তৃতীয় দিনে কোরবানি দিয়ে মাংস এতিম ও অসহায় মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হবে।



