গ্রীষ্মের তীব্র তাপদাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরকে প্রাকৃতিকভাবে ঠান্ডা এবং হাইড্রেটেড রাখতে অনেকেই ঝুঁকছেন ঐতিহ্যবাহী উপাদান কাটিরা গামের দিকে। পুষ্টিবিদদের মতে, মাত্র এক মাস পরিমিত পরিমাণে নিয়মিত কাটিরা গাম সেবন করলে মানবশরীরে বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ায় যুগ যুগ ধরে বিভিন্ন ঘরোয়া পানীয় ও মিষ্টি জাতীয় খাবারে এই প্রাকৃতিক ভোজ্য আঠা ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
কাটিরা গামের বিশেষ গুণ
পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, পানিতে ভেজানোর পর কাটিরা গাম প্রচুর পানি শোষণ করে জেলির মতো রূপ ধারণ করে। এর এই বিশেষ গুণের কারণে এটি শরীরে দীর্ঘ সময় পানি ধরে রাখতে সাহায্য করে, যা তীব্র গরমে ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতার ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দেয়।
হজম ও পেটের স্বাস্থ্যে উপকারিতা
এর পাশাপাশি, কাটিরা গামে থাকা দ্রবণীয় আঁশ বা সলুবল ফাইবার হজমপ্রক্রিয়ার জন্য অত্যন্ত উপকারী। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে, পেট ঠান্ডা রাখতে এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, এটি পেটের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার জন্য একটি সুস্থ পরিবেশ তৈরি করে, যা সামগ্রিক পরিপাকতন্ত্রকে উন্নত করে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা
ওজন নিয়ন্ত্রণ ও অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমাতেও কাটিরা গাম দারুণ ভূমিকা পালন করে। পানিতে ভেজানোর পর এটি আকারে অনেক বড় হয়ে যায়, যা খাওয়ার পর দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকার অনুভূতি দেয়। ফলে ঘন ঘন ক্ষুধা লাগা বা অসময়ে অস্বাস্থ্যকর স্ন্যাক্স খাওয়ার অভ্যাস দূর হয়।
গরমে শক্তি ও ক্লান্তি দূরীকরণ
গরমের ক্লান্তি দূর করে শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তির জোগান দিতেও এর জুড়ি নেই। বাজারে থাকা কৃত্রিম ও অতিরিক্ত চিনিযুক্ত কোমল পানীয়ের স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে এটিকে লেবুর রস, ডাবের পানি, দুধ, ফালুদা কিংবা পুডিংয়ের সাথে মিশিয়ে খাওয়া যায়।
ব্যবহারবিধি ও সতর্কতা
সাধারণত এক থেকে দুই টেবিল চামচ কাটিরা গাম সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রাখলেই সকালে তা নরম জেলিতে পরিণত হয়, যা সহজেই যেকোনো পানীয়ের সাথে মিশিয়ে নেওয়া সম্ভব। তবে চিকিৎসকেরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে কাটিরা গাম স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হলেও এটি অবশ্যই সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে এবং পর্যাপ্ত পানি পানের পাশাপাশি গ্রহণ করা উচিত। অতিরিক্ত যেকোনো কিছুই শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, তাই গরমের এই স্বস্তি পেতে কাটিরা গাম খেতে হবে পরিমিত পরিমাণে।
সূত্র: সামা টিভি।



