কেন আস্ত তেজপাতা বিপজ্জনক?
প্রেশার কুকারে আস্ত তেজপাতা ব্যবহারের কারণে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে— এটি সম্পূর্ণ বিজ্ঞানসম্মত একটি বিষয়। প্রেশার কুকারের ভেতরে পানি ফুটে প্রচুর বাষ্প তৈরি হয়, যা চাপ বাড়িয়ে খাবার দ্রুত সেদ্ধ করে। অতিরিক্ত বাষ্প বের হওয়ার জন্য ঢাকনার ওপর একটি ছোট ছিদ্র থাকে, যার ওপর হুইসেল বসানো থাকে।
তেজপাতার গঠন হালকা, চওড়া ও শক্ত। পানিতে ফুটলে এটি গলে যায় না বা অন্যান্য মসলার মতো মিশে যায় না। রান্নার সময় তরল ফুটলে বুদবুদ ও বাষ্পের ধাক্কায় তেজপাতা সহজেই ভেসে ওপরের দিকে চলে আসতে পারে। পাতাটি যদি ঠিক ওই ছিদ্রের মুখে গিয়ে আটকে যায়, তবে তা নিখুঁত ছিপির মতো কাজ করে, ফলে বাষ্প বের হতে পারে না।
বিস্ফোরণের প্রক্রিয়া ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
ছিদ্র বন্ধ হলে ভেতরের চাপ জ্যামিতিক হারে বাড়তে থাকে। আধুনিক প্রেশার কুকারে সেফটি ভালভ থাকে, যা অতিরিক্ত চাপে গলে গিয়ে বাষ্প বের করে দেয়। কিন্তু সেফটি ভালভ পুরোনো হলে, ঠিকমতো কাজ না করলে, বা চাপ এত দ্রুত বাড়লে যা ভালভ সামলাতে ব্যর্থ হয়, তখন কুকারটি বোমায় পরিণত হতে পারে এবং ভয়ংকর বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।
বিশ্বের নামীদামি প্রেশার কুকার প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোও এই বিপদের কথা স্বীকার করে। তাদের ব্যবহারিকায় স্পষ্ট সতর্কবাণী দেওয়া থাকে: ফেনা তৈরি করে এমন খাবার কিংবা বড় পাতা রান্নার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, কারণ এসব ভেন্ট পাইপ ব্লক করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
নিরাপদে তেজপাতা ব্যবহারের উপায়
তেজপাতা ছাড়া মাংসের স্বাদ জমে না, তবে কিছু সহজ সতর্কতা মেনে চলা জরুরি:
- আস্ত পাতা নয়: তেজপাতা সব সময় মাঝখান থেকে ছিঁড়ে বা ছোট টুকরা করে কুকারে দেবেন। এতে এটি ছিদ্রের মুখে আটকে যাওয়ার মতো বড় থাকবে না।
- উপাদানের নিচে চাপা দিন: তেজপাতাটি কুকারের তরলের ওপর না ভাসিয়ে মাংস, আলু বা অন্যান্য ভারী উপাদানের নিচে চাপা দিয়ে দিন।
- তেলের ব্যবহার: ফেনা হয় এমন কিছু রান্নার সময় এক চামচ তেল বা মাখন দিয়ে দিন। এতে ফেনা কম হবে এবং তেজপাতা বা অন্য কিছু ওপরে ভেসে ওঠার সুযোগ কম পাবে।
- কুকার ভর্তি করবেন না: কখনোই প্রেসার কুকারের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি খাবার বা পানি দিয়ে ভর্তি করবেন না।
সূত্র: দ্য ফিজিক্স অব প্রেশার কুকার, হকিন্স কুকারস ইনস্ট্রাকশন ম্যানুয়াল ও ন্যাশনাল সেন্টার ফর হোম ফুড প্রিজারভেশন।



