নকআউট পর্বের মিশন শুরু ব্রাজিলের
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শেষে নকআউট পর্বে পা দিয়েছে ব্রাজিল। সোমবার হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে জাপানের মুখোমুখি হবে দলটি। ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি জানিয়েছেন, প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নিচ্ছেন না তিনি।
ভুল শোধরানোর সুযোগ নেই
আনচেলত্তি বলেন, ‘নকআউট পর্বে যেকোনো কিছুই হতে পারে। অতিরিক্ত সময় এবং পেনাল্টি; আমরা সব দিক মাথায় রেখেই প্রস্তুতি নিয়েছি। এই ধরনের ম্যাচে শুধু পা নয়, মস্তিষ্ক ও হৃদয় দুটোই সচল রাখতে হবে। যেহেতু এটি এক লেগের ম্যাচ, তাই ছিটকে গেলে আর ফেরার পথ নেই। তবে আমার ছেলেরা বুদ্ধিমান। তারা জানে এই চাপ কীভাবে সামলাতে হয়।’
শুরুর একাদশ নিয়ে ধোঁয়াশা
স্কটল্যান্ডকে হারানো একাদশই মাঠে নামার গুঞ্জন থাকলেও আনচেলত্তি একাদশ ফাঁস করেননি। তিনি মজা করে বলেন, ‘আমি একাদশ ফাঁস করে আপনাদের কাজ সহজ করতে চাই না। তবে যারা খেলবে, তারা ব্যক্তিগতভাবে সেটা আগেই জেনে গেছে। তাই খেলোয়াড়রা কোচের চেয়ে অনেক নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পেরেছে।’
জাপানের বিপক্ষে সাম্প্রতিক স্মৃতি
সর্বশেষ গত বছরের অক্টোবরে এক প্রীতি ম্যাচে জাপানের মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজিল। সেই ম্যাচে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও গোলরক্ষক ও ডিফেন্ডারদের মারাত্মক ভুলে ৩-২ ব্যবধানে হেরে বসেছিল। সেই ম্যাচ প্রসঙ্গে কোচ বলেছেন, ‘হ্যাঁ, ওটা আমাদের জন্য একটি ভালো অভিজ্ঞতা ছিল। এটি আমাদের দেখিয়েছে জাপানের একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দল রয়েছে এবং তারা বিশ্বের অন্যতম সেরা। তারা গত মার্চে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছে এবং তাদের প্রতি আমাদের পূর্ণ সম্মান আছে। আমরা এই ম্যাচের জন্য এমনভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি যেন এটি একটি ফাইনাল ম্যাচ। আর এটি আসলেই একটি ফাইনাল।’
দুপুরের ম্যাচ নিয়ে আপত্তি নেই
ম্যাচটি হিউস্টনের সময় দুপুর ১২টায় হবে। এ নিয়ে কোচের কোনো আপত্তি নেই, ‘রুটিনটা কিছুটা পরিবর্তন হবে, তবে খুব বেশি নয়। দুপুরে খেলাটা একটু অন্যরকম, তবে এই স্টেডিয়ামে খেলা বেশ ভালো, এখানকার অবকাঠামো চমৎকার। আমাদের গরমে খুব একটা ভুগতে হবে না। খেলোয়াড়রা এতে অভ্যস্ত, আমরা সবসময় কম-বেশি এই সময়েই অনুশীলন করি। আমার বিশ্বাস, দুপুরে ম্যাচটি খেলতে আমাদের কোনো সমস্যা হবে না।’
সব বিভাগকে এক করে সামনে এগোনোর পরিকল্পনা
আনচেলত্তি বলেন, ‘এটা বিশ্বকাপ। ফুটবল হলো আপনি কীভাবে চাপ সামলাচ্ছেন এবং মাঠে আপনি কী করতে পারেন সেটার ওপর মনোযোগ দেওয়ার খেলা। আমরা সব বিষয়ের ওপরই মনোযোগ দিতে যাচ্ছি। আক্রমণভাগ, রক্ষণভাগ এবং একসঙ্গে মিলে খেলা। এই ম্যাচটির জন্য সেটারই প্রয়োজন। আমরা একটি শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলতে যাচ্ছি, যারা বেশ সুসংগঠিত এবং মানসম্পন্ন। সবকিছুর ঊর্ধ্বে আমাদের এটি প্রয়োজন। মাঠে আমরা কী করতে চাই, তা নিয়ে যেন আমাদের ধারণা একদম স্পষ্ট থাকে।’
জাপানের মন্তব্যে নির্বিকার আনচেলত্তি
জাপানি স্ট্রাইকার বলেছিলেন, ব্রাজিল আর আগের মতো সেই পরাশক্তি নেই। এমন মন্তব্য প্রসঙ্গে আনচেলত্তি বললেন, ‘তারা কী বলছে, তা নিয়ে আমি কোনো কথা বলব না। আমরা ম্যাচের দিকে এবং আমাদের প্রতিপক্ষের গুণাবলির ওপর মনোনিবেশ করব। কোনো সমস্যায় যেন না পড়তে হয়, সেজন্য আমরা ম্যাচের জন্য ভালোভাবে প্রস্তুতি নেব এবং আমাদের যা করা দরকার তা নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করব। আমরা কোনো মনস্তাত্ত্বিক খেলায় জড়াবো না, আমরা ওসব নিয়ে কাজ করব না।’
ব্রাজিলের পথ কি সহজ?
নকআউট পর্বে ব্রাজিলের পথ চলা সহজ হবে কিনা উত্তরে কোচ বললেন, ‘আমি জানি না, আমি এই কথার সঙ্গে একমত নই। আমার বিশ্বাস প্রতিটি ম্যাচই কঠিন, অত্যন্ত কঠিন। আমাদের অনেক কিছু নিয়ে ভাবতে হবে। সেখানে প্রচুর চাপ থাকে। আমি এখনও বিশ্বাস করি যে এখন পর্যন্ত কোনো দলই নিশ্চিত ফেভারিট নয়; কিছু দল হয়তো অন্যদের চেয়ে ভালো খেলেছে, তবে আমি স্পষ্ট কোনো ফেভারিট দেখছি না। আমার বিশ্বাস, এটি একটি অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ বিশ্বকাপ হবে।’



