ফ্রিদা কাহলো: নারী শক্তির প্রতীক ও ফ্যাশন আইকন
ফ্রিদা কাহলো: নারী শক্তির প্রতীক ও ফ্যাশন আইকন

মেক্সিকান চিত্রশিল্পী ফ্রিদা কাহলো (১৯০৭-১৯৫৪) তাঁর সাজ-পোশাকে স্বকীয় ধারা তৈরি করেছিলেন। তিনি নারীর কোমলতা তুলে ধরতে চাননি, বরং নারী শক্তিকেই প্রকাশ করেছেন। উজ্জ্বল রঙের ফুল, বিচিত্র গয়না আর পোশাকের নকশায় তিনি তাঁর জীবনকেই যেন উদযাপন করেছেন। এ জন্য তিনি পরিণত হয়েছেন ফ্যাশন আইকনে।

ফ্রিদার ব্যক্তিগত জীবন ও প্রভাব

ফ্রিদা কাহলো বিয়ে করেছিলেন বিশ্বখ্যাত মেক্সিকান চিত্রশিল্পী দিয়েগো রিভেরাকে (১৮৮৬-১৯৫৭)। তাঁর স্বামী দিয়েগো রিভেরা মারা যান ১৯৫৭ সালে। ১৮ বছর বয়সে বাস ও ট্রলির ভয়াবহ দুর্ঘটনায় শারীরিকভাবে অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হন। ওই দুর্ঘটনার পর বেশ কয়েক মাস শয্যাশায়ী ছিলেন। তরুণ বয়সে ফ্রিদা চুলে লাগাতেন রঙিন ফুল। ফ্রিদা বিছানায় শুয়েই ছবি আঁকা শুরু করলেন।

ফ্রিদার পোশাক ও শারীরিক চ্যালেঞ্জ

শার্ট-প্যান্টে ফ্রিদা দেখা যায়। নয়নতারা সেহগাল ও রিতার সঙ্গে শাড়ি পরা ফ্রিদা (মাঝে) ছবিতে ধরা পড়েছে। ঐতিহ্যবাহী পোশাকে বুদ্ধিদীপ্ত নকশায় শরীরের কাটাছেঁড়া ফ্রিদা লুকিয়ে রাখতেন। ২০১২ সালে মেক্সিকোর সেই নীল বাড়িকে জাদুঘর বানিয়ে ফ্রিদার আঁকা ছবি, পোশাক, গয়না, অনুষঙ্গ, ব্যবহার্য নানা নিদর্শন তুলে ধরা হয়। শারীরিক এই ক্রুটিগুলো ঢাকার জন্যই লম্বা স্কার্ট, করসেট ধাঁচের টপ আর ব্লাউজ পরতেন। পোশাক পরে পেতেন আরাম, একই সঙ্গে হতো স্টাইলও। ফ্রিদার কৃত্রিম পা দেখলেও মুগ্ধ হতে হয়। কৃত্রিম পায়ে চামড়ার তৈরি লাল রঙের বুট ছিল। এই বুটের ওপর তিনি আবার লেস, ঘণ্টি লাগিয়েছিলেন, রংও করেছিলেন। পা, মেরুদণ্ড, পাঁজর, কোমর, কণ্ঠাহারের অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বাস দুর্ঘটনার পর।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ফ্রিদার উক্তি ও নারীবাদী সত্তা

‘আমি ফুল আঁকি যেন ফুল মরে না যায়।’ ফ্রিদার এই উক্তি পড়লেই চোখে ভেসে ওঠে মাথায় লাগানো থোকা থোকা ফুল। ফ্রিদা মেক্সিকোর দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত এলাকা টোউয়ানটেপেকের পোশাক পরতেন, এটি ছিল মাতৃতান্ত্রিক এলাকা। স্টাইলেও তিনি নারীবাদী সত্তাকে তুলে ধরেছিলেন। ভালোবাসতেন গয়না। হাতে তৈরি বিডসের গয়না প্রায়ই পরতেন। এ ছাড়া পরতেন চেইনে লাগানো পেনডেন্ট। গয়নায় তিনি নিজস্ব একটা ধারা তৈরি করেছিলেন।

ফ্রিদার স্টাইলের প্রভাব

গত বছরের শেষ দিকে স্প্যানিশ ফুটবলার লামিনে ইয়ামালের প্রেমের গুঞ্জন শোনা যায় স্পেনের ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে জনপ্রিয়তা পাওয়া ইনেস গার্সিয়া সান্তোসের সঙ্গে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইনেসের বিভিন্ন ছবিতে দেখা যায়, ফ্রিদা কাহলোর স্টাইল অনুসরণ করেন তিনি। ফ্যাশন একটা আবর্তনের মধ্যে দিয়েই ফেরত আসে। হয়তো অজান্তেই ফ্রিদা কাহলোর স্টাইল ধারণ করছি আমরা। গয়নাতেও চলে এসেছে ফ্রিদা কাহলো। ফ্যাশনের মধ্য দিয়ে এলেও ফ্রিদা কাহলোর শক্তিশালী ও সাহসী সত্তা তুলে ধরা হচ্ছে।