ঢাকায় ফ্যাশন ট্রেন্ড: নতুন মৌসুমে কী পরবেন
ঢাকায় ফ্যাশন ট্রেন্ড: নতুন মৌসুমে কী পরবেন

ঢাকার ফ্যাশন জগতে নতুন মৌসুমে ঐতিহ্যবাহী জামদানির আধুনিক সংস্করণ এবং আরামদায়ক পোশাকের সমন্বয় দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় ডিজাইনাররা জানিয়েছেন, করোনা মহামারির পর ক্রেতাদের পছন্দে বড় পরিবর্তন এসেছে। তারা এখন আরাম ও স্টাইল উভয়কেই গুরুত্ব দিচ্ছেন।

জামদানির আধুনিক রূপ

ঢাকার ফ্যাশন ডিজাইনার রুবিনা হক তার সর্বশেষ সংগ্রহে জামদানির ঐতিহ্যবাহী নকশাকে আধুনিক কাটে উপস্থাপন করেছেন। তিনি বলেন, “জামদানি এখন শুধু বিশেষ অনুষ্ঠানের জন্য নয়; দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্যও আমরা হালকা ওজনের জামদানি তৈরি করছি।” তার সংগ্রহে ৩০ শতাংশ জামদানি পোশাক রয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি।

আরামদায়ক পোশাকের চাহিদা

স্থানীয় ব্র্যান্ড ‘কটন স্টোরি’র মালিক সাবরিনা ইসলাম জানান, করোনার পর ক্রেতারা আরামদায়ক পোশাক বেশি পছন্দ করছেন। তিনি বলেন, “আমাদের বিক্রির ৬০ শতাংশই এখন সুতির পোশাক। ক্রেতারা ট্রাউজার, শার্ট এবং কুর্তার মতো আরামদায়ক পোশাক কিনছেন।” ব্র্যান্ডটি গত বছরের তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি সুতির পোশাক বিক্রি করেছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রঙের ট্রেন্ড

এ মৌসুমে ঢাকার ফ্যাশনে পেস্টেল রঙের প্রাধান্য দেখা যাচ্ছে। ডিজাইনার রুবিনা হক বলেন, “হালকা গোলাপি, মিন্ট গ্রিন এবং স্কাই ব্লু রঙের পোশাকের চাহিদা বেড়েছে।” স্থানীয় মার্কেটগুলিতে পেস্টেল রঙের পোশাকের সরবরাহ ৪০ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন খুচরা বিক্রেতারা।

স্থানীয় বনাম আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড

ঢাকার ফ্যাশনপ্রেমীরা এখন স্থানীয় ব্র্যান্ডের দিকে ঝুঁকছেন। ‘বাংলাদেশ ফ্যাশন ফোরাম’ এর সদস্য তানভীর আহমেদ জানান, “গত এক বছরে স্থানীয় ব্র্যান্ডের পোশাকের বিক্রি ২৫ শতাংশ বেড়েছে। ক্রেতারা এখন দেশীয় পণ্যকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।” তবে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোরও চাহিদা রয়েছে, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সামগ্রিক প্রভাব

ঢাকার ফ্যাশন শিল্পে এই পরিবর্তনগুলি ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। স্থানীয় ডিজাইনাররা আরও সৃজনশীল হচ্ছেন এবং ক্রেতারা বৈচিত্র্যময় পছন্দ পাচ্ছেন। শিল্প বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আগামী মৌসুমে এই ট্রেন্ড আরও শক্তিশালী হবে।