অফিসে যেতে প্রতিদিন নয়, দুই সপ্তাহ পরপর সমুদ্র পাড়ি দেন এই তরুণী
অফিসে যেতে দুই সপ্তাহ পরপর সমুদ্র পাড়ি দেন এই তরুণী

অফিসে যাতায়াতের ঝক্কি এড়াতে মানুষ কত কিছুই না করে। কিন্তু ৩১ বছর বয়সী জর্জিয়া স্যামুয়েলস সম্পূর্ণ উল্টো পথে হাঁটছেন। নিজের অফিসে যাওয়ার জন্য প্রতি দুই সপ্তাহ পরপর দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে প্রায় ৩ হাজার মাইল পথ ভ্রমণ করেন তিনি। অথচ তার এই চাকরিটি এমন এক জায়গায়, যা অন্য কেউ সহজে করতে চাইবে না।

বালিতে বসবাস, খনিতে কাজ

অস্ট্রেলিয়ার পার্থের বাসিন্দা জর্জিয়া গত নভেম্বরে তার গাড়ি ও কাপড়চোপড় বিক্রি করে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তিনি ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া মাইনের একটি প্রত্যন্ত ও অন্ধকার খনির ভেতরে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন। সেখানকার নিয়ম অনুযায়ী, দুই সপ্তাহ টানা খনিতে ডিউটি করতে হয় এবং পরবর্তী দুই সপ্তাহ ছুটি থাকে। এই ছুটির সময়টা বালিতে কাটাতে এবং বিশ্বভ্রমণের স্বপ্ন পূরণ করতেই তিনি এই অবিশ্বাস্য দূরত্বের পথ যাতায়াত শুরু করেন।

ছয় মাস ধরে বালিতে থাকা জর্জিয়া জানান, পার্থে থাকার সময় তিনি কোনও বন্ধু পাচ্ছিলেন না। পরে বালির ফিটনেস কালচার ও লাইফস্টাইল দেখে সেখানে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এই দীর্ঘ যাতায়াতের সুবাদে এখন প্রতি মাসে তার শত শত ডলার সাশ্রয় হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বালির খাবারের মান দারুণ। মাত্র ১৫০ ডলারে দুজন মিলে চমৎকার ডাইন আউট করা যায়। এখানে জীবনযাত্রার মান অনেক ভালো এবং খরচও কম। গত ছয় মাসে আমি নিজের হাতে কোনও রান্না করিনি।’ অনেকে তার এই জীবনকে ঈর্ষা না করলেও, জর্জিয়া নিজের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অত্যন্ত সুখী।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

লন্ডন থেকে বার্সেলোনায় স্থানান্তর

একইভাবে দূরপাল্লার অফিস যাতায়াত করে সুখে আছেন ৩৩ বছর বয়সী ইথান স্পিবিও। গত মে মাসে তিনি ও তার স্বামী সোরেন শার্ফ (৩৫) লন্ডনের বাড়ি বিক্রি করে স্পেনের বার্সেলোনায় চলে যান। সেখানে তারা ১৭০০ পাউন্ডে একটি ডুপ্লেক্স পেন্টহাউস ভাড়া নেন, যা লন্ডনে তাদের আগের ২৫০০ পাউন্ডের মর্গেজ কিস্তির চেয়ে অনেক কম। বর্তমানে ইথান বার্সেলোনায় বসে রিমোটলি নিজের কমিউনিকেশন ট্রেইনিং ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তবে যুক্তরাজ্যের পোস্ট অফিস কিংবা সিমেন্সের মতো বড় গ্রাহকদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের জন্য প্রতি মাসে দুই থেকে তিনবার বার্সেলোনা থেকে লন্ডনে যাতায়াত করেন তিনি। বার্সেলোনা থেকে লন্ডনে প্রতিদিন ২৫টি ফ্লাইট থাকায় ইথানের এই যাতায়াতে কোনও সমস্যা হয় না।

তার মতে, লন্ডনের পাশ্ববর্তী রিডিং শহর থেকে যারা প্রতিদিন লন্ডনে এসে অফিস করেন, তাদের চেয়ে বার্সেলোনা থেকে এসে অফিস করা অনেক সাশ্রয়ী।

সূত্র: মিরর