প্রকাশক ঐক্যের সিদ্ধান্ত: অস্বচ্ছতা ও সময় স্বল্পতায় অমর একুশে বইমেলা বর্জন
অমর একুশে বইমেলা বর্জন করল প্রকাশক ঐক্য

অমর একুশে বইমেলা বর্জনের ঘোষণা দিল প্রকাশক ঐক্য

দেশের প্রকাশকদের সংগঠন 'প্রকাশক ঐক্য' এবারের অমর একুশে বইমেলায় অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। বইমেলার প্রস্তুতিতে ফাইল ছবি, স্টল ও প্যাভিলিয়ন বরাদ্দে অস্বচ্ছতা নিরসন না হওয়া এবং সময় স্বল্পতাকে এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রকাশকদের তালিকা ও পূর্ববর্তী আলোচনা

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশক ঐক্য-এর পক্ষে ১৫টি প্রকাশনা সংস্থার প্রকাশক ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছেন:

  • আহমদ পাবলিশিং হাউজের প্রকাশক মেছবাহউদ্দীন
  • কাকলী প্রকাশনীর প্রকাশক এ কে নাসির আহমেদ
  • অনন্যা প্রকাশনীর প্রকাশক মনিরুল হক
  • অন্যপ্রকাশের প্রকাশক মাজহারুল ইসলাম
  • অ্যাডর্ন পাবলিকেশনের প্রকাশক সৈয়দ জাকির হোসাইন
  • কথাপ্রকাশের প্রকাশক জসীম উদ্দিন
  • বাতিঘর প্রকাশনীর প্রকাশক দীপঙ্কর দাশ
  • পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্সের প্রকাশক কামরুল হাসান শায়ক
  • ইউপিএল প্রকাশক মাহরুখ মহিউদ্দীন

প্রকাশক ঐক্য জানিয়েছে, ১৮ ফেব্রুয়ারি সংস্কৃতিমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিব এবং বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের সঙ্গে বৈঠকের পর তারা ঈদের পর মেলা আয়োজনের দাবি থেকে সরে আসেন। নিশ্চিত ব্যবসায়িক ক্ষতি সত্ত্বেও মেলায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং ১৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করেন। সংগঠনটি তিন শতাধিক সাধারণ প্রকাশককেও মেলায় অংশ নিতে রাজি করায়।

প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ নিয়ে বিতর্ক ও দাবি

এবারের বইমেলায় সবার সমান অধিকারের স্বার্থে প্রকাশক ঐক্য কোনো প্যাভিলিয়ন না নেওয়া এবং অন্য কাউকেও প্যাভিলিয়ন না দেওয়ার দাবি জানায়। এরপর সব প্যাভিলিয়ন বাতিল করে সর্বোচ্চ পাঁচ ইউনিটের স্টল সমানভাবে বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়ে মৌখিক সমঝোতা হয়। কিন্তু বাংলা একাডেমি 'অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায়' অনেক প্রকাশককে প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দিয়েছে বলে অভিযোগ করে সংগঠনটি।

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বরাদ্দ পাওয়া প্রকাশকেরা নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়ায় মূলধারার প্রকাশকদের জন্য ছোট স্টল নিয়ে মেলায় অংশ নেওয়া অমর্যাদাকর হয়ে পড়ে। ফলে তারা সব প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ বাতিলের দাবি জানান।

বাংলা একাডেমির প্রতিক্রিয়া ও সময়সীমা

প্রকাশক ঐক্যের অভিযোগ, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক তাদের দাবিকে বাস্তবসম্মত আখ্যা দিয়ে মৌখিকভাবে আশ্বস্ত করলেও বৈঠকের পর তা চেপে যাওয়া হয়। পরে একাধিকবার মনে করিয়ে দেওয়া সত্ত্বেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ২০ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টা পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। ২১ ফেব্রুয়ারি সংস্কৃতিসচিব ফোন করে প্যাভিলিয়ন বাতিল করা সম্ভব নয় বলে জানান এবং প্যাভিলিয়ন রেখেই মেলায় অংশ নেওয়ার অনুরোধ করেন।

স্টল নির্মাণের বাস্তবিক সমস্যা

প্রকাশক ঐক্য জানায়, প্যাভিলিয়ন বাতিল না হওয়ায় এখনো স্টল নম্বর বরাদ্দের লটারি হয়নি। মেলা শুরু হওয়ার তিন দিন আগে স্টল নির্মাণ, বিদ্যুৎ–সংযোগ ও বই সাজানো বাস্তবিকভাবে সম্ভব নয়। এই পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়েই সংগঠনটি এবারের বইমেলায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে তাদের কোনো সদস্য ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক বিবেচনায় অংশ নিতে চাইলে তাতে সংগঠনের আপত্তি নেই বলেও জানানো হয়।

মেলার সাফল্য কামনা

অংশ না নিলেও বইমেলার সাফল্য কামনা করে প্রকাশক ঐক্যর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা মেলা বা সরকারের প্রতিপক্ষ নয়। বইমেলা আপন মহিমায় উদ্‌যাপিত হোক, সেটিই তাদের প্রত্যাশা। নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো বইমেলার উদ্বোধন করবেন। এ উপলক্ষে তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়ে মেলার সার্বিক সাফল্য কামনা করেছে সংগঠনটি।