একুশের ভোরের শিশিরে বইয়ের পসরা: চিত্ত সাহার অনন্য দৃশ্য
একুশের ভোর স্বাধীন বাংলাদেশে শিশিরের কণা ঘাসে জমে ছিল, আর পলাশ ফুটে উঠছিল স্নিগ্ধ পরিবেশে। তারপর শুরু হয় আরেক কবিতার সূচনা, যা ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে আছে। ভেজা ঘাসের ওপর বিছানো চাটাইয়ে চিত্তরঞ্জন সাহার বইয়ের পসরা দাঁড়িয়ে ছিল এক অবাক করা দৃশ্য।
বই বিকিকিনির এই রূপ কি সম্ভব?
সেদিন অনেকেই বুঝতে পারেনি, এভাবেই কীভাবে একটি কীর্তিস্তম্ভ উঠে যায়। কোনো কোনো অমর কবিতা শুরু হয় ঠিক এমনই সাধারণ মুহূর্ত থেকে, যেভাবে গঙ্গোত্রী বা গোমুখ থেকে নেমে এসেছিল গঙ্গা, পদ্মা ও গড়াইয়ের ধারা। জানা নেই কার দিব্যচোখে ছিল এই নদীজন্মের প্রভাত, কিন্তু ফেরি করে আসা আমরা কজনাও পড়তে পারিনি চিত্তদার সেই দূরাভাসী চোখের দৃষ্টি।
চাটাই বিছিয়ে বই বেচছিলেন চিত্তরঞ্জন সাহা, একুশের দিনভর জুড়ে এই দৃশ্য ছিল এক অবাক দুরূহ গদ্যছবি। এখন বইয়ের উৎসবে বইগুলো সব স্বপ্নের প্রজাপতির মতো উড়ে বেড়াচ্ছে, মেলামাঠজুড়ে ছড়িয়ে আছে পদ্যছবি ও অবিনশ্বর আনন্দ-কবিতা। চিত্তদা লিখেছিলেন প্রথম পঙ্ক্তি সেই ভোরে, যা আজও জীবন্ত হয়ে আছে আমাদের স্মৃতিতে।
এই ঘটনা শুধু একটি বিকিকিনির গল্প নয়, বরং এটি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সাহিত্যের প্রতি গভীর শ্রদ্ধার প্রতীক। চিত্ত সাহার এই প্রচেষ্টা বইপ্রেমীদের মনে জাগিয়েছে নতুন উদ্দীপনা, যেখানে বই শুধু পণ্য নয়, বরং জ্ঞানের আলো ছড়ানোর মাধ্যম। একুশে ফেব্রুয়ারির এই বিশেষ দিনে তার এই অবদান আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় কবিতা ও সাহিত্যের শক্তি।
