সিলেট বন্ধুসভার পাঠচক্রের আসরে আলোচিত হয়েছে তারাদাস বন্দোপাধ্যায় রচিত 'তারানাথ তান্ত্রিক' উপন্যাস। ২৪ এপ্রিল বিকেলে প্রথম আলো সিলেট অফিসের বন্ধুসভাকক্ষে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
চলচ্চিত্রের মতো গল্প
বাইরে অবিরাম বৃষ্টি, জীর্ণশীর্ণ বাড়ির তক্তপোশে বসে আছে এক বৃদ্ধ। হাতে সিগারেট, সামনে মুড়িমাখা। সিগারেটের ধোঁয়ার কুণ্ডলীর ঘুরপাকেই জেগে ওঠে বৃদ্ধের অতীত জীবনের রোমাঞ্চময় তন্ত্রসাধনার গল্প। এই বৃদ্ধই তারানাথ তান্ত্রিক। অল্প বয়সে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়ে সাধু হওয়ার ইচ্ছায়। বাংলার পথে প্রান্তরে ঘুরে বেড়ায় সাধুসঙ্গের আশায়। জড়ো হয় নানান অলৌকিক অভিজ্ঞতা। বীরভূমের মাতু পাগলিসহ বেশ কয়েকজনের সাধুসঙ্গ পায়। কিন্তু সন্ন্যাসজীবন তার ভাগ্যে ছিল না। শেষ পর্যন্ত ফিরে যায় সংসারজগতে। সঙ্গে জমা হয় তন্ত্রসাধনার বিচিত্র সব গল্প। বৃদ্ধ বয়সে অলৌকিক সব অভিজ্ঞতা শোনায় দুই বন্ধু কিশোরী ও লেখককে। তারাও গল্প শোনার লোভে সিগারেট নিয়ে হাজির হয় তারানাথের কাছে। তারানাথ সিগারেটের বাটে লম্বা টান দিয়ে শুরু করে অতিপ্রাকৃত সব গল্প। গল্পগুলো ধোঁয়ার কুণ্ডলীর মতো, যা ধীরে ধীরে ভেসে উঠে আবার মিলিয়ে যায় অজানার অন্ধকারে।
বাংলা সাহিত্যে নতুন মাত্রা
পাঠচক্র পর্যালোচনায় বন্ধু অম্লান রায় বলেন, গল্পগুলোতে দুটি ভিন্ন সময়কালের উল্লেখ পাওয়া যায়। প্রথমটি লেখকের ভাষায় চল্লিশের দশকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ডামাডোলে শহর কলকাতার টালমাটাল অবস্থা, আর দ্বিতীয়টি তারও আগে তারানাথ তান্ত্রিকের যুবক বয়সের স্মৃতিতে ধরা পড়া গ্রামবাংলার লোকবিশ্বাস ও সংস্কৃতি।
বন্ধু আরাফ বলেন, তারানাথ তান্ত্রিক চরিত্রটি বাংলা সাহিত্যে সম্পূর্ণ নতুন ও ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। বন্ধু প্রণব চৌধুরী বলেন, চরিত্রটি বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের সৃষ্টি হলেও তারাদাস বন্দোপাধ্যায় চরিত্রটিকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যান। বন্ধু শুভ তালুকদার বলেন, চরিত্রটি দুইটি সময়ের মধ্যে এক অদ্ভুত সেতুবন্ধন তৈরি করে।
উপস্থিতি
পাঠচক্রে আরও উপস্থিত ছিলেন বন্ধু দেব রায় সৌমেন, ফয়সাল আহমেদ, সুবর্ণা দেব, শ্রেয়ান ঘোষ, কৃত্য ছত্রী, প্রত্যাশা তালুকদার, শুভ তালুকদার, আহসানউল্লাহ খান, নয়ন হাজরাসহ অনেকে।



