আহমদ ছফার স্মৃতিচারণামূলক গ্রন্থ ‘যদ্যপি আমার গুরু’ নিয়ে পাঠচক্রের আসর করেছে ময়মনসিংহ বন্ধুসভা। ১৫ মে বিকেলে আনন্দ মোহন কলেজ–সংলগ্ন শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মুক্তমঞ্চে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
পাঠ আলোচনায় অংশগ্রহণকারীদের বক্তব্য
পাঠ আলোচনায় জেন্ডার ও সমতাবিষয়ক সম্পাদক তৃণা কবীর বলেন, ‘“যদ্যপি আমার গুরু” বইটি বাংলাদেশের অন্যতম শক্তিমান কথাসাহিত্যিক ও চিন্তাবিদ আহমদ ছফা রচিত স্মৃতিচারণামূলক গ্রন্থ। এটিতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে একজন গুরু, একজন শিক্ষক, একজন বুদ্ধিজীবীর আত্মজীবনী—যাঁর সব বিষয়ে তুখোড় পাণ্ডিত্য। অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক স্যারের চিন্তাশক্তি ও দৃষ্টিভঙ্গি ছিল প্রখর।’
‘আহমদ ছফা ১৯৭০ সালের দিকে বাংলা একাডেমি থেকে বৃত্তি নিয়ে পিএইচডি করার প্রচেষ্টা করছিলেন। তখন লেখকের একজন সুপারভাইজার প্রয়োজন ছিল দিকনির্দেশনা প্রদানের জন্য। ঠিক সেই সময় তাঁর পরিচয় হয় অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক সাহেবের সঙ্গে। লেখকের দীর্ঘ একটা সময় আব্দুর রাজ্জাক সাহেবের সঙ্গে প্রতিনিয়ত ওঠাবসা হয়েছে গবেষণাকর্মটির সুবাদে। অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক স্যার লেখককে নানা পরামর্শ দিয়েছেন কীভাবে বই পড়া শুরু করতে হয়।’
‘রাজ্জাক স্যার জিজ্ঞেস করলেন, “পড়ার সময় দরকারি অংশ টুইক্যা রাখার অভ্যাস করছেন কি না।” লেখক চুপ করে রইল। স্যার মন্তব্য করলেন, “তাহলে তো কোনো কাম হবো না। খেত চষবার সময় জমির আইল বাইন্দা রাখতে অয়।” তিনি যে শুধু সমাজতন্ত্র, রাজনীতি, ইতিহাস এগুলোতে পারদর্শী ছিলেন এমন নয়, তিনি দাবা খেলাতেও অনেক দক্ষ ছিলেন। তৎকালীন সময়ে তিনি নিয়াজ মোর্শেদকে সঙ্গে নিয়ে দাবা খেলার আসর বসাতেন। মোর্শেদ স্যারের কাছ থেকে দাবা খেলার কৌশল আয়ত্ত করে গ্র্যান্ডমাস্টার বনেছেন।’
পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদকের বক্তব্য
পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক আল ইমরান বলেন, ‘বইটিতে লেখক জাতীয় অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক স্যারের গুণগান সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। আব্দুর রাজ্জাক স্যারকে চলমান বিশ্বকোষ বললে খুব একটা অত্যুক্তি করা হবে না। কেননা অর্থশাস্ত্র, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, ইতিহাস, শিল্প, সাহিত্য, ধর্ম, সংস্কৃতি—সব বিষয়ে তিনি বিশেষজ্ঞের মতো মতামত দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। তাঁর জ্ঞানপাণ্ডিত্য ছিল সর্বজনবিদিত।’
‘অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক স্যার পুরান ঢাকার ভাষায় কথা বলতেন সব সময়। একদিন আহমদ ছফাকে বললেন, “যখন কোনো নতুন জায়গায় যাবেন, দুইটা বিষয় পয়লা জানার চেষ্টা করবেন। ওই জায়গার মানুষ কী খায় আর পড়ালেখা কী করে। কাঁচাবাজারে যাইবেন কী খায় এটা দেখনের লাইগ্যা। আর বইয়ের দোকানে যাইবেন পড়াশোনা কী করে হেইডা জাননের লাইগ্যা।”’
সভাপতির বক্তব্য
সভাপতি মেহেদী হাসান বলেন, ‘গ্রন্থটিতে ছাত্র এবং শিক্ষকের সম্পর্ক এতটা হৃদ্যতাপূর্ণ ছিল যে বর্তমান সময়ে এ রকম ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক বিরল। বর্তমান প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে দক্ষ এবং যথাযথ জ্ঞানের অধিকারী করে গড়ে তোলার জন্য শিক্ষকদেরকে জাতীয় অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক স্যারের মতো মধুর সম্পর্ক তৈরি করা আবশ্যক।’
পাঠচক্রে আরও উপস্থিত ছিলেন বন্ধু সানজিদা দোলনা, রুপা রানী দাস, সাব্বির হোসাইন ও আহমেদ জুনায়েদ।



