বউভাতে মাংস কম দেওয়ায় সংঘর্ষ, নেত্রকোনায় কনের বোনসহ আহত ১৫
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় একটি বউভাত অনুষ্ঠানে মাংস কম দেওয়া ও ভাতে দুর্গন্ধের অভিযোগে কনেপক্ষের সঙ্গে বরপক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে কনের ছোটবোনসহ উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। ঘটনাটি মঙ্গলবার বিকালে মোহনগঞ্জ উপজেলার সমাজ সহিলদেও ইউনিয়নের উতিয়ারকোণা গ্রামে সংঘটিত হয়।
ঘটনার বিবরণ
জানা গেছে, গত সোমবার উতিয়ারকোণা গ্রামের সবুজ মিয়ার ছেলে কাওছার মিয়ার (২২) সঙ্গে পাশের মেদী পাথরকাটা গ্রামের মো. আব্দুল হেকিমের মেয়ের বিয়ে সম্পন্ন হয়। পরদিন মঙ্গলবার বিকালে বরের বাড়ি উতিয়ারকোণা গ্রামে বউভাতের অনুষ্ঠানে দাওয়াত খেতে যান কনেপক্ষের লোকজন।
এ সময় কনেপক্ষের লোকজন প্লেটে মাংস কম দেওয়া এবং ভাতে দুর্গন্ধের অভিযোগ তোলেন। এসব নিয়ে কনেপক্ষের সঙ্গে বরপক্ষের লোকজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয় এবং একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষে কনের ছোট বোনসহ উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন।
বরের বাবার প্রতিক্রিয়া
বুধবার এ বিষয়ে বরের বাবা সবুজ মিয়া বলেন, “১ লাখ ৪০ হাজার টাকা খরচ করে আমার ছেলের বউভাতের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছি। অনুষ্ঠান চলাকালে খাবার খেতে বসে কনেবাড়ির লোকজন আমাদের লোকজনের সঙ্গে অহেতুক তর্কবিতর্ক করে একপর্যায়ে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুসি মারতে থাকে। এত টাকা খরচ করে বিয়ের অনুষ্ঠান করলাম, কিন্তু তাদের এসব কর্মকাণ্ডের কারণে বিয়ের অনুষ্ঠানই মাটি হয়ে গেল।”
কনের চাচার বক্তব্য
এদিকে কনের চাচা গোলাম মোস্তফা বলেন, “বরের বাড়িতে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। এটি খুবই লজ্জাজনক।” তিনি ঘটনাটিকে অপ্রত্যাশিত ও দুঃখজনক হিসেবে উল্লেখ করেন।
পুলিশের অবস্থান
মোহনগঞ্জ থানার ওসি মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন জানান, তারা বউভাত অনুষ্ঠানে সংঘর্ষের কোনো অভিযোগ পাননি। তিনি বলেন, “অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন এবং অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।
এই ঘটনা সামাজিক অনুষ্ঠানে ছোটখাটো বিষয় নিয়ে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলায় এ ধরনের ঘটনা বিরল নয়, তবে এবারের সংঘর্ষে আহতের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি।



