পারিবারিক অশান্তির জেরে স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে বিয়ে করলেন দুই সন্তানের বাবা নাঈম হোসেন
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে, যেখানে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে 'শিক্ষা দিতে' দুই সন্তানের বাবা নাঈম হোসেন অন্য এক গৃহবধূকে নিয়ে পালিয়ে বিয়ে করেছেন। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে ঈশ্বরদী উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের দেওয়ানপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে, যা এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
দীর্ঘদিনের অশান্তি ও পরকীয়া প্রেমের পটভূমি
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে নাঈম হোসেনের সঙ্গে তার স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক অশান্তি চলছিল। এই অশান্তির জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে নাঈম পার্শ্ববর্তী গ্রামের এক গৃহবধূর সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। মঙ্গলবার দুপুরে তিনি বাড়ি থেকে কাপড়-চোপড় গুছিয়ে ওই গৃহবধূকে নিয়ে অজানা গন্তব্যের উদ্দেশে পাড়ি জমান এবং পরে বিয়ে করেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
নাঈম হোসেনের অকপট স্বীকারোক্তি
ঘটনার বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে নাঈম হোসেন অকপটে নিজের কর্মকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, 'মূলত আমার স্ত্রীকে শিক্ষা দেওয়ার জন্যই আমি আরেকজনের বউকে নিয়ে পালিয়েছি। আমার স্ত্রী আমার কথামতো চলে না, সারাক্ষণ অশান্তি করেন। এজন্য আমি এই বিয়ে করেছি। তবে কিছুদিন গেলে আবার আগের স্ত্রীর কাছেই ফিরে যাব।' তার এই বক্তব্য ঘটনার পটভূমি আরও স্পষ্ট করেছে।
পুলিশের প্রতিক্রিয়া ও আইনি অবস্থা
এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ওসি মো. মমিনুজ্জামান বলেন, 'বিষয়টি লোকমুখে শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকেই থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' এই মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, ঘটনাটি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তের আওতায় আসেনি, যা এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ঘটনার সামাজিক প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনা শুধু একটি পারিবারিক ট্র্যাজেডিই নয়, বরং এটি সমাজে নৈতিকতা ও আইনের প্রশ্নও উত্থাপন করেছে। নাঈম হোসেনের কর্মকাণ্ডে:
- দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
- স্ত্রী ও নতুন গৃহবধূ উভয়ের জীবনই ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
- এলাকায় সামাজিক অস্থিরতা ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এই ঘটনা পারিবারিক সহিংসতা ও আইনি জটিলতার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যা বাংলাদেশের গ্রামীণ সমাজে ক্রমবর্ধমান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।
