প্রেমের টানে ফিলিপাইন থেকে ফেনীতে এসে প্রেমিককে বিয়ে করেছেন তরুণী জেনি
ফিলিপাইনের তরুণী ফেনীতে বিয়ে করলেন প্রেমিক সুজন পালকে

প্রেমের টানে ফিলিপাইন থেকে ফেনীতে এসে বিয়ে করলেন তরুণী জেনি

প্রেমের টানে ফিলিপাইন থেকে বাংলাদেশের ফেনীতে এসে প্রেমিককে বিয়ে করেছেন এক তরুণী। বুধবার (৪ মার্চ) রাতে ফেনী শহরের কালি মন্দিরে সনাতন ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসারে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। এই অনুষ্ঠানে পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন এবং নবদম্পতির জন্য শুভকামনা জানানো হয়।

কাতারে পরিচয় ও দীর্ঘদিনের প্রেমের গল্প

ফিলিপাইনের ওই তরুণীর নাম জেনি, যার বয়স ৩২ বছর। তার স্বামী নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার দরাপনগর গ্রামের বাসিন্দা হিরলাল পালের ছেলে সুজন পাল, যার বয়স ৩৪ বছর। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কাজের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে অবস্থান করছিলেন সুজন পাল। সেখানে ২০১৮ সালে জেনির সঙ্গে তার প্রথম পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে, যা পরবর্তীতে গভীর প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়।

দীর্ঘদিনের এই সম্পর্কের পর সম্প্রতি তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। সেই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবেই জেনি বাংলাদেশে আসেন। তারপর বুধবার রাতে ফেনী শহরের কালি মন্দিরে সনাতন ধর্মীয় রীতিতে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। এই বিয়েতে পুরোহিত শ্রী নীমাই চন্দ্র চক্রবর্তী ধর্মীয় অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।

নবদম্পতির অনুভূতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

বিয়ের পর অনুভূতি প্রকাশ করে জেনি বলেন, "দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর বিয়ের জন্য আমি বাংলাদেশে এসেছি। এখানে এসে আমার খুব ভালো লাগছে এবং সবকিছুই সুখকর মনে হচ্ছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতা ও ভালোবাসা তাকে অভিভূত করেছে।

সুজন পাল বলেন, "প্রায় আট বছরের সম্পর্কের পর আমাদের ভালোবাসা পূর্ণতা পেয়েছে। এতে আমি খুবই আনন্দিত। আমরা সবসময় একসঙ্গে থাকতে চাই এবং সবার আশীর্বাদ কামনা করি।" তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, তাদের জীবন সুখ ও সমৃদ্ধিতে ভরপুর হবে।

পুরোহিতের বক্তব্য ও শুভকামনা

ফেনী কালি মন্দিরের পুরোহিত শ্রী নীমাই চন্দ্র চক্রবর্তী জানান, "একে অপরকে ভালোবেসেই তারা বিয়ের জন্য বাংলাদেশে এসেছেন। হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে এবং সুজনের পরিবারের সদস্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।" তিনি নবদম্পতির জন্য শুভকামনা জানান এবং তাদের দাম্পত্য জীবন সুখময় হোক বলে আশা প্রকাশ করেন।

এই ঘটনা প্রেমের শক্তি এবং সাংস্কৃতিক বন্ধনকে তুলে ধরে, যা সীমান্ত পেরিয়ে মানুষের হৃদয়কে এক করে। নবদম্পতি জেনি ও সুজন পালের জীবনযাত্রা এখন নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে, যেখানে তারা একসঙ্গে ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখছেন।