দুপুরের ঘুম কি আসলেই ওজন বাড়ায়? জানুন সত্যি
দুপুরের ঘুম ও ওজন বাড়ার সম্পর্ক: সত্য কী?

দুপুরে খাবার খাওয়ার পর অনেকেরই ঘুম ঘুম ভাব আসে, যা একেবারেই স্বাভাবিক। অফিস বা বাসায়—ভাত খাওয়ার পর একটু ঘুম পাওয়ার অভিজ্ঞতা অনেকেরই হয়। তবে প্রশ্ন হলো, দুপুরে ঘুমানো কি সত্যিই ওজন বাড়ায়?

ক্ষুদ্র ঘুমের উপকারিতা

চিকিৎসকদের মতে, অল্প সময়ের জন্য ১৫ থেকে ৩০ মিনিটের পাওয়ার ন্যাপ শরীরের জন্য উপকারী। এটি শরীর ও মস্তিষ্ককে বিশ্রাম দেয়, ক্লান্তি দূর করে এবং কাজের সক্ষমতা বাড়ায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছোট সময়ের দুপুরের ঘুম একটি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস হতে পারে।

দীর্ঘ ঘুমের সমস্যা

তবে সমস্যা দেখা দেয় যখন এই ঘুম দীর্ঘ হয়। কেউ যদি ২ থেকে ৩ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় ঘুমান, তাহলে তা রাতের ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করতে পারে। এর ফলে রাতে ঘুমাতে সমস্যা হতে পারে এবং ঘুমের রুটিন অনিয়মিত হয়ে পড়ে। সুস্থ থাকার জন্য রাতে নিয়মিত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অতিরিক্ত ঘুমের প্রভাব

দুপুরে অতিরিক্ত ঘুম রাতের ঘুম কমিয়ে দিতে পারে, যার ফলে রাত জাগার প্রবণতা বাড়ে এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়। ঘুমের অভাব শরীরে ক্লান্তি বাড়ায় এবং দৈনন্দিন কাজ বা ব্যায়ামের আগ্রহ কমিয়ে দেয়। এতে শরীরের শারীরিক কার্যকলাপ কমে গিয়ে ওজন বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

হরমোনের ভূমিকা

চিকিৎসকদের মতে, কম ঘুম হলে শরীরে ক্ষুধা বাড়ানো হরমোন ‘ঘ্রেলিন’ বেড়ে যায় এবং পেট ভরে যাওয়ার অনুভূতি দেওয়া ‘লেপটিন’ কমে যায়। ফলে মানুষ প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খেয়ে ফেলে। এছাড়া ঘুমের ঘাটতি মানসিক চাপ বাড়ায়, যা ‘কর্টিসল’ হরমোন বৃদ্ধি করে এবং ক্যালোরি খরচ কমিয়ে দিতে পারে—ফলে ওজন বাড়ার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, দুপুরে ঘুমালেও তা অবশ্যই সংক্ষিপ্ত হওয়া উচিত। দীর্ঘ সময়ের ঘুম এড়িয়ে চললে শরীর সুস্থ থাকে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। তাই দুপুরের ঘুমের অভ্যাস থাকলে তা ৩০ মিনিটের মধ্যে সীমিত রাখা ভালো।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ