মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার মেদেনীমহল এলাকায় অবস্থিত ভুরভুরি জোড়া পুল এখন নানা বয়সের মানুষের বৈকালিক আড্ডার মিলন-তীর্থে পরিণত হয়েছে। গত সোমবার বিকেলে ঘন মেঘ ও গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যেও বহু মানুষ সেখানে ভিড় করেন। স্থানটি রাজনগর-বালাগঞ্জ সড়কের পাশে কাউয়াদীঘি হাওরের মধ্যে পড়েছে।
জোড়া পুলের উৎপত্তি
ভুরভুরি ছড়ার (খাল) ওপর পুরোনো একটি ব্রিজ ছিল, যা উঁচু হওয়ায় নিচ দিয়ে নৌকা চলাচল করতে পারত। সম্প্রতি ব্রিজটি জরাজীর্ণ হয়ে গেলে পাশেই নতুন একটি ব্রিজ তৈরি করা হয়। দুটি ব্রিজ পাশাপাশি হওয়ায় স্থানীয়রা একে 'ভুরভুরি জোড়া পুল' বলে ডাকেন। তবে নতুন ব্রিজটি নিচু হওয়ায় নৌকা চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়েছে, যা স্থানীয়দের আক্ষেপের কারণ।
দূরদূরান্তের মানুষের আগমন
মাস কয়েক ধরে দূরদূরান্তের মানুষও এখানে বেড়াতে আসছেন। মেদেনীমহল গ্রামের গেন্দু মিয়া বলেন, 'বৈশাখ মাসে এই স্থানটিতে অনেক মানুষ থাকে। তখন ধান কাটা হয়। এখানে ধান মাড়াই-ঝাড়াই হয়। বর্ষায় অনেকে মাছ মারে। দুই মাস ধরি (ধরে) অনেক মানুষ আইরা (আসছেন)। আশপাশর মানুষ আইন (আসেন), দুরইর (দূরের) মানুষও আইন। ছুটির দিন খুব বেশি থাকইন (থাকেন)। মেঘ-বৃষ্টি আইলে কিছু কমি (কমে) যায়। সন্ধ্যার পর পর্যন্ত লোকজন থাকইন (থাকেন)।'
স্থানীয় উদ্যোগ
স্থানীয় তরুণ, প্রবাসীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ স্থানটিকে আরও রঙিন করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছেন। ব্রিজের রেলিং ও গাছের গোড়া রং করা হয়েছে, বেঞ্চ বসানো হয়েছে, কৃষ্ণচূড়াগাছের চারা লাগানো হয়েছে। শায়েক তালুকদার ও মো. রাজন জানান, বৃষ্টি এলে পর্যটকদের আশ্রয়ের জন্য ছাউনি তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি হালকা খাবারের দোকান, ফুলের গাছ ও ডাস্টবিন বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
হাওরের সৌন্দর্য
জোড়া পুলের চারদিক খোলা হাওর—দূর পর্যন্ত জলের ঢেউ, শাপলা-শালুক, কচুরিপানা, সবুজ ঘাস। জলে হাঁস ভেসে বেড়ায়, আকাশে চিল উড়ে। কেউ নৌকায় মাছ ধরেন, কেউ ডুবে যাওয়া সড়ক পেরিয়ে নৌকায় যাতায়াত করেন। মেঘলা আকাশে শেষ বিকেলের আলো হাওরের বুকে রঙের খেলা জাগায়। ধীরে ধীরে অন্ধকার নামলে একঝাঁক হাঁস বাড়ি ফেরে, আর মানুষ আড্ডা শেষে ভিজতে ভিজতে বাড়ি ফেরেন।



