গাজীপুর সাফারি পার্কে দর্শনার্থীদের ক্ষোভ: বন্ধ সুবিধা, নোংরা পরিবেশ ও উচ্চ টিকিট মূল্য
গাজীপুর সাফারি পার্কে দর্শনার্থীদের ক্ষোভ: বন্ধ সুবিধা ও নোংরা পরিবেশ

গাজীপুর সাফারি পার্কে দর্শনার্থীদের ক্ষোভ: বন্ধ সুবিধা ও নোংরা পরিবেশ

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ভাওয়াল শালবনে অবস্থিত সাফারি পার্কটি দর্শনার্থীদের জন্য এখন বিরক্তি ও হতাশার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি পার্ক পরিদর্শনে আসা এক মধ্যবয়সী ব্যক্তি বলেন, ‘এইখানে এসে যা দেখলাম, তা দেখার জন্য কেন আসছি, তাই তো বুঝতে পারছি না।’ তাঁর মতো অনেক দর্শনার্থীই পার্কের বেহাল দশা ও সেবার মান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

বন্ধ সুবিধা ও নোংরা পরিবেশ

পার্কে বাঘ ও সিংহ পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি খাওয়া-দাওয়ার জন্য দুটি রেস্তোরাঁ রয়েছে, কিন্তু দুটিই বন্ধ। প্রকৃতি বীক্ষণ কেন্দ্র, পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, প্যাডেল বোট, এগ ওয়ার্ল্ড, হাতি শো গ্যালারি, শিশুপার্কসহ বেশিরভাগ আকর্ষণীয় সুবিধা বন্ধ হয়ে আছে। স্যুভেনির শপ নেই, গাইডের ব্যবস্থা নেই এবং প্রতিবন্ধী দর্শনার্থীদের জন্য একটি হুইলচেয়ার ছাড়া বিশেষ কোনো সুবিধা নেই। পার্কের চারপাশে নোংরা পরিবেশ এবং দর্শনার্থীদের ফেলে দেওয়া পলিথিন ও খাবারের প্যাকেটে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।

উচ্চ টিকিট মূল্য ও নিরাপত্তা সংকট

পার্কে প্রবেশের পর প্রতিটি আকর্ষণ দেখতে আলাদা আলাদা টিকিট কিনতে হয়। একজন প্রাপ্তবয়স্ক দর্শনার্থী পুরো পার্ক ঘুরে দেখতে চাইলে অন্তত সাড়ে পাঁচ শ টাকা খরচ করতে হয়। শিশু ও শিক্ষার্থীরা কিছুটা ছাড় পেলেও পরিবার নিয়ে আসা দর্শনার্থীদের জন্য এটি ব্যয়বহুল। নিরাপত্তার দিক থেকেও পার্কটি পিছিয়ে আছে। সিসি ক্যামেরা সংখ্যা কম, পুলিশ ক্যাম্প নেই এবং কর্মীদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম দেওয়া হয় না। সীমানাপ্রাচীর ভাঙা ও নিচু হওয়ায় বহিরাগতদের প্রবেশ সহজ।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রাণী মৃত্যু ও অবকাঠামোগত সমস্যা

পার্কে বর্তমানে ৭টি বাঘ, ৫টি সিংহ, ২১টি ভালুকসহ মোট এক হাজারের মতো প্রাণী রয়েছে। কিন্তু প্রাণী মৃত্যুর হার উদ্বেগজনক। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আনা ২৫টি জেব্রার সবকটিই মারা গেছে, ১২টি জিরাফও মৃত্যুবরণ করেছে। বন্য প্রাণী হাসপাতাল ও ল্যাবরেটরি বেহাল অবস্থায় রয়েছে, আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারযোগ্য নয়। পার্কের জিপ ও বাসের বেশিরভাগই নষ্ট, এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসের অভাব রয়েছে।

পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ফারাক

২০১৯ সালে গৃহীত মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী পার্কটিকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্রে রূপান্তরের কথা ছিল, কিন্তু বাজেট স্বল্পতা ও দক্ষ জনবলের অভাবে তা কাগজে-কলমেই রয়ে গেছে। সহকারী বন সংরক্ষক মো. তারেক রহমান বলেন, ‘শক্তিশালী সীমানাপ্রাচীর, পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা ও দক্ষ জনবলের অভাবই এখন পার্ক পরিচালনার বড় চ্যালেঞ্জ।’ পার্কের প্রথম প্রকল্প পরিচালক তপন কুমার দে মনে করেন, সরকারের নজর বাড়ানো জরুরি।

৩ হাজার ৬৯০ একর এলাকাজুড়ে গড়ে ওঠা এই সাফারি পার্কটি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়। আগে এটি বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক নামে পরিচিত ছিল, কিন্তু ২০২৪ সালে নাম পরিবর্তন করে সাফারি পার্ক, গাজীপুর করা হয়। দর্শনার্থী সংখ্যা দিনে গড়ে এক থেকে দেড় হাজারে নেমে এসেছে, যা একসময় শীতকালে ৫০ হাজার ছাড়িয়ে যেত। পার্কটির উন্নয়নে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া না হলে এটি আরও অবহেলার শিকার হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।