আহলে বায়তে রাসুল স্মরণে প্রতি বছরের মতো এবারও শুরু হচ্ছে ১০ দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক শাহাদাতে কারবালা মাহফিল। বুধবার (১৭ জুন) বাদআসর থেকে নগরীর জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ প্লাজায় শুরু হবে এ মাহফিল।
সংবাদ সম্মেলনে প্রস্তুতির তথ্য
প্রস্তুতির তথ্য জানাতে সোমবার মাহফিল পরিচালনা পর্ষদ নগরীর একটি রেস্টুরেন্টে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে জানানো হয়, মাহফিলে বাগদাদ থেকে বড়পীর হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রা.) দরবারের সাজ্জাদানশীন ও বংশধর শাহ সুফি সৈয়দ আফিফ উদ্দিন আল মনসুর আল জিলানি এবং ভারতের টিপু সুলতান জামে মসজিদের খতিব বিশ্ববরেণ্য আলেম শাহসুফি সাখাওয়াত হোসেন বরকতীসহ দেশ-বিদেশের ইসলামিক স্কলাররা অংশ নেবেন।
মাহফিলের উদ্দেশ্য
মাহফিলের উদ্দেশ্য হলো, আহলে বায়তে রাসুল ইসলামের জন্য ত্যাগ স্বীকার করে তারা যে মর্যাদা পেয়েছেন, সেটা আলোচনা না হলে মুসলিম উম্মাহ অন্ধকারে চলে যাবে। সেই অন্ধকার থেকে বের করে আনতেই শাহাদাতে কারবালা মাহফিলের প্রয়োজন। আহলে সুন্নাত ওয়াল জমাআত ইসলামের সীমার মধ্যে থেকে আহলে বায়তে রাসুলকে স্মরণ করে থাকে।
প্রধান সমন্বয়কের বক্তব্য
সংবাদ সম্মেলনে মাহফিল পরিচালনা পর্ষদের প্রধান সমন্বয়ক ও ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী হোসেন সোহাগ বলেন, চার দশক আগে ১৯৮৬ সালে আল্লামা জালাল উদ্দিন আল কাদেরি (র.) শাহাদাতে কারবালা মাহফিলের শুরু করেছিলেন; তখন তাকে অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছিল। কারণ তখন শাহাদাতে কারবালা মানে ছিল মিছিল এবং শোকের মাতম; কিন্তু আহলে বাইতের প্রেম যে শোক না, এটা যে একটা শক্তি, নতুন উদ্দীপনা- সেই জিনিসটা তিনি এ মাহফিলের মাধ্যমে দীর্ঘদিন আমাদের শিখিয়েছেন।
লিখিত বক্তব্য
আলী হোসেন সোহাগের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মাওলানা জাফর উল্লাহ। তিনি বলেন, ৬১ হিজরির ১০ মুহররম কারবালার প্রান্তরে হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) ও আহলে বায়তের সদস্যরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে শাহাদত বরণ করেন। তাদের আত্মত্যাগ ইসলামের ইতিহাসে সত্য, ন্যায়, সাহস ও ঈমানি দৃঢ়তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। বিশ্বে যখন সহিংসতা, বিভেদ ও মানবিক মূল্যবোধের সংকট বাড়ছে, তখন কারবালার শিক্ষা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক।
অন্যান্য উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ
সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের জেনারেল সেক্রেটারি প্রফেসর কামাল উদ্দিন আহমেদ, জমিয়তুল ফালাহ মসজিদের খতিব আল্লামা সৈয়দ আবু তালেব মুহাম্মদ আলাউদ্দিন, পর্ষদের ভাইস প্রেসিডেন্ট খোরশেদুর রহমান, আবদুল হাই মাসুম, পেয়ার মোহাম্মদ কমিশনার, প্রচার সম্পাদক দিলশাদ আহমদ মুহাম্মদ আনোয়ারুল হক, সিরাজুল মোস্তফা, হাফেজ মুহাম্মদ ছালামত উল্লাহ্, মুহাম্মদ মাঈনুদ্দিন মিঠু, মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম, আবুল মনসুর শিকদার, জাফর আহমদ সওদাগর, আবু সাঈদ মুহাম্মদ হামেদ, মুহাম্মদ সাহাব উদ্দিন, মুহাম্মদ জহির উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।



