ফজরের সময় ভুল ধারণায় সেহরি খেলে রোজার বিধান: কাজা ওয়াজিব, কাফফারা নয়
ফজরের সময় ভুলে সেহরি খেলে রোজার বিধান

ফজরের সময় ভুল ধারণায় সেহরি খেলে রোজার বিধান: কাজা ওয়াজিব, কাফফারা নয়

রমজান মাসে সেহরির সময় নির্ধারণে সতর্কতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে অসাবধানতা বা ভুল ধারণার কারণে অনেকেই মনে করতে পারেন যে এখনো ফজরের সময় শুরু হয়নি। পরে যদি দেখা যায়, সেহরি খাওয়ার আগেই সুবহে সাদিক হয়ে গেছে, তখন প্রশ্ন জাগে: ওই দিনের রোজার বিধান কী হবে? কাজা নাকি কাফফারা ওয়াজিব হবে? দিনের বাকি সময় কীভাবে কাটাতে হবে? ইসলামি ফিকহশাস্ত্রে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।

রোজার হুকুম: শুধু কাজা, কাফফারা নয়

রমজান মাসে কেউ যদি এ ধারণা করে সেহরি খেয়ে নেন যে এখনো ফজরের সময় হয়নি, কিন্তু পরে জানতে পারেন যে ফজরের সময় আগে থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছিল, তাহলে শরিয়তের বিধান হলো: এ অবস্থায় তার ওপর শুধু ওই দিনের রোজার কাজা ওয়াজিব হবে, কাফফারা ওয়াজিব হবে না। অর্থাৎ, যদি কেউ মনে করেন যে এখনো সুবহে সাদিক হয়নি, পরে সময় দেখে নিশ্চিত হন যে খাওয়ার আগেই ফজরের সময় শুরু হয়ে গিয়েছিল, তাহলে ওই দিনের রোজা আদায় হবে না। পরবর্তীতে তাকে সেই রোজার কাজা আদায় করতে হবে, তবে কাফফারা দিতে হবে না।

দিনের বাকি সময়ের করণীয়

এ অবস্থায় ওই ব্যক্তির জন্য দিনের বাকি সময় রোজাদারের মতো পানাহার ও অন্যান্য রোজা ভঙ্গকারী কাজ থেকে বিরত থাকা ওয়াজিব। ইসলামি উৎসগুলোতে এ বিষয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শরঈ দলিল ও ব্যাখ্যা

আল-ফাতাওয়া আল হিন্দিয়া গ্রন্থে উল্লেখ আছে: ‘যার ওপর দিনের শুরুতে রোজা ফরজ হয়েছে এবং সে রোজা রাখার উপযুক্ত ছিল, কিন্তু পরে কোনো কারণে সে রোজা চালিয়ে যেতে পারেনি— যেমন ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা ভেঙেছে, অথবা সন্দেহের দিনে না খেয়ে পরে জানা গেল তা রমজানের দিন ছিল, অথবা ফজর হয়নি মনে করে সেহরি খেয়ে পরে জানা গেল ফজর হয়ে গেছে— তাহলে তার জন্য দিনের বাকি সময় রোজাদারদের মতো বিরত থাকা ওয়াজিব।’ (আল-ফাতাওয়া আল হিন্দিয়া ১/২১৪–২১৫)

রদ্দুল মুহতার গ্রন্থে বলা হয়েছে: ‘ফজর হয়নি মনে করে সেহরি খেলে তার ওপর কাফফারা নয়, শুধু কাজা ওয়াজিব হবে। কারণ এখানে অপরাধটি সীমিত পর্যায়ের— এটি যাচাই-বাছাই না করার ভুল, ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা ভঙ্গ করার অপরাধ নয়।’ (রদ্দুল মুহতার ২/৪০৫, নাজমুল ফাতাওয়া ৩/১৮৭)

সতর্কতা ও উপসংহার

সেহরির সময় ভুল হওয়ার কারণে ফজরের পর খাওয়া হয়ে গেলে রোজা আদায় হবে না, তবে কাফফারা দিতে হবে না— শুধু কাজা করতে হবে। পাশাপাশি দিনের বাকি সময় রোজাদারের মতো পানাহার থেকে বিরত থাকা জরুরি। তাই রোজার সময়সূচি নির্ধারণে সতর্ক থাকা উত্তম, যাতে এমন ভুলের পুনরাবৃত্তি না ঘটে। রমজান মাসে সেহরি ও ইফতারের সময়সীমা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং নির্ভরযোগ্য সূত্র অনুসরণ করা উচিত।