রমজানে নারীদের রোজা: বিশেষ অবস্থায় শর্তসাপেক্ষে ছাড়ের বিধান
রমজানে নারীদের রোজা: বিশেষ অবস্থায় ছাড়ের বিধান

রমজানে নারীদের রোজা: বিশেষ অবস্থায় শর্তসাপেক্ষে ছাড়ের বিধান

আখেরি নবী হজরত মোহাম্মদ মোস্তফা (সা.) এর উম্মতের ওপর রমজান মাসে রোজা পালনকে ফরজ করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন, হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যেন তোমরা মুত্তাকি হতে পারো। (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৩)। হাদিস শরিফে এ প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) বলেন, যখন তোমরা (রমজানের) চাঁদ দেখবে, তখন থেকে রোজা রাখবে আর যখন (শাওয়ালের) চাঁদ দেখবে, তখন থেকে রোজা বন্ধ করবে। আকাশ যদি মেঘাচ্ছন্ন থাকে তবে ৩০ দিন রোজা রাখবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস:১৯০৯)।

বিশেষ অবস্থায় নারীদের রোজার বিধান

উপরোক্ত আয়াত ও হাদিস দ্বারা প্রমাণিত যে, প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমান নর-নারীর ওপর রমজান মাসের রোজা পালন ফরজ। তবে, ইসলামে নারীদের এমন বিশেষ কিছু মুহূর্ত আছে, যখন শর্তসাপেক্ষে রোজা না রাখার সুযোগ রেখেছে। এখানে বিশেষ সেই মুহূর্তগুলো তুলে ধরা হলো।

অন্তঃসত্ত্বা নারীদের রোজা

অন্তঃসত্ত্বা নারীকে যদি কোনও মুসলমান পরহেজগার অভিজ্ঞ ডাক্তার বলেন, রোজা রাখলে তার নিজের বা গর্ভের বাচ্চার প্রাণনাশের বা মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তাহলে সেই নারী রোজা নাও রাখতে পারেন। পরে শুধু কাজা করে নিলেই হবে। (বাদাইউস সানায়ে: ২/২৫০)।

স্তন্যদানকারিণী নারীদের রোজা

স্তন্যদানকারিণীর রোজার বিষয়টিও অনেকটাই অন্তঃসত্ত্বার রোজার মতো। অর্থাৎ স্তন্যদানকারিণী রোজা রাখলে যদি দুগ্ধপোষ্য শিশুর মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে, তাহলে তিনি রোজা না রাখতে পারেন। তবে পরে কাজা করে নিতে হবে। আর রোজা অবস্থায় শিশুকে দুধ পান করালে রোজা ভঙ্গ হয় না। (ফতওয়া দারুল উলুম: ৬/৪০৮)।

ঋতুমতি নারীদের রোজা

ঋতুস্রাবের (পিরিয়ড-মাসিক) সময় নারীদের ওপর রোজা ফরজ নয়। যদি কোনও নারীর ফজরের আগেই ঋতুস্রাব শুরু হয়ে যায়, তাহলে তার জন্য দিনের বেলা খাওয়াদাওয়া করা বৈধ। তবে গোপনে পানাহার করা উচিত। পক্ষান্তরে, ঋতুস্রাবের কারণে রোজা না রেখে দিন শুরু করার পর ঋতুস্রাব বন্ধ হলে দিনের বাকি অংশ রোজাদারদের সাদৃশ্য অবলম্বন করে পানাহার বর্জন করবে। কিন্তু এ দিনের রোজাও পরে কাজা করে নিতে হবে। (আহসানুল ফতোয়া: ৪/৪২৮)।

সন্তান প্রসবের পর নারীদের রোজা

সন্তান জন্মদানের পর পবিত্র হওয়ার আগপর্যন্ত নারীদের জন্য রোজা রাখা ফরজ নয়। সন্তান জন্মদান পরবর্তী স্রাব থেকে নারীরা যদি ৪০ দিন হওয়ার আগেই পবিত্র হয়ে যায়, তাহলে রোজা রাখবে এবং নামাজ আদায়ের জন্য গোসল করে নেবে। আর যদি ৪০ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও স্রাব অব্যাহত থাকে, তাহলে এই অবস্থাতেই সে গোসল করে নেবে এবং রোজা রাখবে। কেননা, ৪০ দিনের পরে যে স্রাব আসবে, সেটা অসুস্থতা হিসেবে গণ্য হবে। (শরহে বেকায়া: ১/১২০)।

উপরোক্ত প্রতিটি অবস্থাতেই নারীর জন্য পরবর্তী উপযুক্ত সময়ে রোজা কাযা করতে হবে। লেখিকা: আলেমা।