রোজায় সেহরি খাওয়ার গুরুত্ব ও গোসল ফরজের বিধান
রমজান মাসে সেহরি খাওয়া সুন্নত হিসেবে বিবেচিত হয়। হাদিস শরিফে সেহরির মধ্যে ব্যাপক বরকত ও কল্যাণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেহরি খাও। কেননা, সেহরিতে বরকত রয়েছে।’ (সহিহ মুসলিম)। তবে রমজানে অনেকেরই এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়—সহবাস বা স্বপ্নদোষের কারণে গোসল ফরজ হয়েছে, কিন্তু সেহরির সময় খুব কম বা ঘুম থেকে দেরিতে ওঠার কারণে তখনই গোসল করা সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে: গোসল না করে সেহরি খেলে কি রোজা হবে?
গোসল ফরজ হওয়ার চারটি কারণ
ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, গোসল ফরজ হওয়ার কারণ সুনির্দিষ্ট চারটি। এগুলোর যে কোনো একটি সংঘটিত হলেই গোসল ফরজ হয়ে যায়। সেগুলো হলো:
- জানাবাত থেকে পবিত্রতা: নারী-পুরুষের যৌন মিলন, স্বপ্নদোষ বা যে কোনো উপায়ে বীর্যপাত হলে গোসল ফরজ হয়। আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দেন: وَإِن كُنتُمْ جُنُبًا فَاطَّهَّرُواْ ‘আর যদি তোমরা অপবিত্র হও তবে সারা দেহ পবিত্র করে নাও।’ (সুরা: মায়েদা, আয়াত: ৬)।
- মাসিক বন্ধ হওয়ার পর: নারীদের মাসিক বন্ধ হওয়ার পর পবিত্র হওয়ার জন্য গোসল করা ফরজ।
- সন্তান প্রসবের পর: সন্তান প্রসবের পর নেফাসের রক্ত বন্ধ হলে নারীদের পবিত্র হওয়ার জন্য গোসল করা ফরজ।
- মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেওয়া: জীবিত ব্যক্তিদের জন্য মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেওয়া ফরজ।
হাদিসের আলোকে গোসল ফরজ অবস্থায় সেহরি ও রোজা
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র জীবন থেকে এ বিষয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়। উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রমজান মাসে সহবাসের ফলে ফরজ গোসল অবস্থায় রাসুল (সা.) সুবহে সাদিক অতিবাহিত করতেন। এরপর তিনি গোসল করে রোজা রাখতেন। (সহিহ বুখারি: ১৮২৯)।
উম্মুল মুমিনিন হজরত উম্মে সালামা (রা.) থেকেও অনুরূপ বর্ণনা পাওয়া যায়। তিনি বলেন, গোসল ফরজ অবস্থায় আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর ফজরের সময় হয়ে যেত। তখন তিনি গোসল করতেন এবং রোজা পালন করতেন। (সহিহ বুখারি: ১৯২৬)।
এসব হাদিস থেকে স্পষ্ট হয় যে, গোসল ফরজ থাকা অবস্থায় সেহরি খাওয়া এবং রোজা রাখা জায়েজ। তবে ফজরের নামাজ আদায়ের জন্য গোসল করা ফরজ। সহিহ মুসলিমের বর্ণনা অনুযায়ী, সেহরি নাপাক অবস্থায় খাওয়া গেলেও ফজরের নামাজ আদায়ের জন্য গোসল করা আবশ্যক।
ফজরের নামাজ ও গোসলের গুরুত্ব
বিনা ওজরে অপবিত্র অবস্থায় এক ওয়াক্ত নামাজের সময় অতিবাহিত করা কবিরা গুনাহ হিসেবে বিবেচিত হয়। এক ওয়াক্ত নামাজ ছেড়ে দেওয়ার ফলে পরকালে ভয়াবহ আজাবের মুখোমুখি হতে হবে। তাই গোসল ফরজ হলে সেহরি খাওয়া এবং রোজা রাখা যাবে, কিন্তু ফজরের নামাজের আগে গোসল করে পবিত্র হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
রমজান মাসে সময় ব্যবস্থাপনা ও ধর্মীয় কর্তব্য পালনে সচেতনতা অপরিহার্য। গোসল ফরজের মতো পরিস্থিতিতে হাদিসের নির্দেশনা মেনে চললে রোজা ও নামাজ উভয়ই সঠিকভাবে আদায় করা সম্ভব।
