রমজানে তারাবিহ নামাজে কুরআন খতমের একই পদ্ধতি অনুসরণের আহ্বান ইসলামিক ফাউন্ডেশনের
রমজানে তারাবিহতে কুরআন খতমের একই পদ্ধতির আহ্বান

ইসলামিক ফাউন্ডেশন পবিত্র রমজান মাসে দেশের সব মসজিদে তারাবিহ নামাজে কুরআন খতমের জন্য একটি অভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ শাখার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই অনুরোধ প্রকাশ করা হয়েছে।

কেন এই আহ্বান?

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, রমজান মাসে প্রায় সব মসজিদেই খতমে তারাবিহ নামাজে কুরআনের নির্দিষ্ট পরিমাণ পারা তিলাওয়াতের রেওয়াজ থাকলেও কিছু মসজিদে ভিন্নতা দেখা যায়। এই ভিন্নতার কারণে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতকারী, কর্মজীবী ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য কুরআন খতমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে অনেক মুসল্লি মানসিক চাপ ও অতৃপ্তি অনুভব করেন এবং পূর্ণ সওয়াব থেকে বঞ্চিত হন।

প্রস্তাবিত পদ্ধতি

এই সমস্যা সমাধানের জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশন একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে। প্রথম ৬ দিনে দেড় পারা করে মোট ৯ পারা এবং পরবর্তী ২১ দিনে দিনে এক পারা করে মোট ২১ পারা তিলাওয়াত করার মাধ্যমে ২৭ রমজান রাতে, অর্থাৎ পবিত্র শবে কদরে পূর্ণ কুরআন খতম করা সম্ভব হবে।

তিলাওয়াতের বিস্তারিত নির্দেশনা

বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিটি তারাবিহর জন্য সূরা ও আয়াতের সুনির্দিষ্ট তালিকা দেওয়া হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ:

  • প্রথম তারাবিহ: সুরা ফাতেহা ও সুরা বাকারার ১ থেকে ২০৩ আয়াত পর্যন্ত।
  • দ্বিতীয় তারাবিহ: সুরা বাকারার ২০৪ আয়াত থেকে সুরা আল ইমরানের ৯১ আয়াত পর্যন্ত।
  • এইভাবে ২৭তম তারাবিহতে সুরা নাবার ১ আয়াত থেকে সুরা নাস পর্যন্ত তিলাওয়াতের মাধ্যমে খতম সম্পন্ন হবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন মসজিদের খতিব, ইমাম, কমিটি সদস্য, মুসল্লি এবং সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে এই পদ্ধতি অনুসরণের জন্য জোরালো অনুরোধ জানিয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য ও আধ্যাত্মিক পরিপূর্ণতা অর্জনে সহায়তা করা হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।