সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে চাঁদপুরের অর্ধশতাধিক গ্রামে আগাম রোজা শুরু
চাঁদপুরের গ্রামে সৌদি আরবের সঙ্গে মিলে রোজা শুরু

সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে চাঁদপুরের গ্রামে আগাম রোজা শুরু

সৌদি আরবে রমজান মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে দেশটিতে রোজা শুরু হচ্ছে। এই সময়ের সঙ্গে মিল রেখে বাংলাদেশের চাঁদপুর জেলার অর্ধশতাধিক গ্রামেও সোমবার থেকেই রোজা পালন শুরু হয়েছে। রাতের তারাবির নামাজের মাধ্যমে রোজার আনুষ্ঠানিকতা সূচিত হয়েছে, যা স্থানীয় ধর্মীয় ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

ঐতিহাসিক প্রথা ও স্থানীয় নেতৃত্বের ভূমিকা

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা দরবার শরিফের পীর ও সাদ্রা হামিদিয়া ফাজিল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আরিফ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ১৯২৮ সালে সাদ্রা দরবার শরিফের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা ইসহাক (রা.) প্রথম চাঁদ দেখার ভিত্তিতে আগাম রোজা রাখাসহ ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদযাপনের নিয়ম চালু করেন। তার অনুসারীরা দীর্ঘদিন ধরে এই নিয়ম মেনে রোজা ও ঈদ পালন করে আসছেন, যা একটি অনন্য ধর্মীয় ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।

মোহাম্মদ আরিফ চৌধুরী বলেন, 'আগাম রোজা ও দুই ঈদ পালনের প্রবর্তক মাওলানা ইসহাক (রহ.) প্রথম চাঁদ দেখার ভিত্তিতে রোজা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদযাপনের নিয়ম চালু করেন। আমরা পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখার খবর পেয়েছি এবং খোঁজখবর নিয়ে নিশ্চিত হয়েছি। রাতের তারাবির নামাজ সম্পন্ন করা হয়েছে; ভোররাতে সাহরি খেয়ে আগামীকাল থেকে রোজা শুরু হবে।'

স্থানীয় সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ ও অনুশীলন

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, জেলার হাজীগঞ্জ, ফরিদগঞ্জ ও মতলব উত্তর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা রাখা হচ্ছে। এই ধারার অধীনে শবে বরাত, শবে কদর ও শবে মেরাজসহ অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানও নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হয়, যা সম্প্রদায়ের ধর্মীয় জীবনে গভীর সংযোগ তৈরি করেছে।

মতলব উত্তরের দেওয়ানকান্দি গ্রামের বোরহান উদ্দিন ডালিম বলেন, 'প্রতি বছর আমরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ উদযাপন করি। এবারও একইভাবে রোজা রাখব, যা আমাদের ঐতিহ্য ও বিশ্বাসের প্রতিফলন।' এই অনুশীলনটি স্থানীয়দের মধ্যে ধর্মীয় ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে।

এই ঘটনা শুধুমাত্র ধর্মীয় আচারই নয়, বরং এটি চাঁদপুরের গ্রামীণ সমাজের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। স্থানীয় নেতৃত্ব ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে এই প্রথা টিকে আছে, যা রমজান মাসের পবিত্রতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে আরও শক্তিশালী করছে।