সৌদি আরবে বুধবার থেকে রমজান, বাংলাদেশে পরশু শুরু হতে পারে
সৌদি আরবে বুধবার রমজান, বাংলাদেশে পরশু শুরু হতে পারে

সৌদি আরবে বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে পবিত্র রমজান মাস

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে সৌদি আরবে আগামীকাল বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে পবিত্র রমজান মাস শুরু হচ্ছে। বিদেশি গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির সংশ্লিষ্ট চাঁদ দেখা কমিটির ঘোষণার ভিত্তিতে রোজা শুরুর তারিখ নির্ধারিত হয়েছে। এই ঘোষণার মাধ্যমে সৌদি আরবের মুসলিম সম্প্রদায় রমজান মাসের প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছেন।

বাংলাদেশে পরশু থেকে রোজা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা

অপরদিকে বাংলাদেশে সাধারণত সৌদি আরবের একদিন পর রমজান মাস শুরু হয়। জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক ও আকাশে চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে। সে হিসাবে বাংলাদেশে পরশু থেকে রোজা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ইতোমধ্যে রমজানের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং মসজিদগুলোতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ইফতার ও তারাবির আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।

বাজারেও রমজান উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কেনাকাটা বেড়েছে। দোকানগুলোতে ইফতারির সামগ্রী ও অন্যান্য জিনিসপত্রের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক পরিবার ইতোমধ্যে রমজানের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য মজুদ করতে শুরু করেছেন।

চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টায় (বাদ মাগরিব) বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের ইসলামিক ফাউন্ডেশন সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী।

বাংলাদেশের আকাশে কোথাও পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেলে তা সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানোর জন্য অনুরোধ জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। এ ছাড়া সরাসরি জানাতে নির্ধারিত টেলিফোন নম্বরগুলো হলো: ০২-৪১০৫৩২৯৪, ০২-২২৬৬৪০৫১০ এবং ০২-২২৩৩৮৩৩৯৭।

এই টেলিফোন নম্বরগুলোর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ চাঁদ দেখা সংক্রান্ত তথ্য সরাসরি ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে জানাতে পারবেন। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া, কারণ চাঁদ দেখা রমজান মাস শুরুর তারিখ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

রমজান মাসের প্রস্তুতি ও সামাজিক প্রভাব

রমজান মাস মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য অত্যন্ত পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই মাসে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা রোজা রাখেন, নামাজ পড়েন এবং দান-খয়রাত করেন। মসজিদগুলোতে বিশেষ তারাবির নামাজের আয়োজন করা হয় এবং ইফতারের সময় সামাজিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ বৃদ্ধি পায়।

বাংলাদেশে রমজান মাসের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। বিভিন্ন মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালাচ্ছে। অনেক স্থানে ইফতার বিতরণের আয়োজন করা হচ্ছে, যা দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে রমজান মাস উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন এই মাসের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সবাই জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন।