মদিনার অদূরে অবস্থিত কোবা মসজিদ ইসলামের ইতিহাসে প্রথম মসজিদ হিসেবে পরিচিত। হজের সফরে হজযাত্রীরা সাধারণত যেসব স্থানে জিয়ারা বা ভ্রমণ করেন, তার একটি বিস্তারিত তালিকা নিচে উপস্থাপন করা হলো।
মদিনার ঐতিহাসিক স্থান
১. মসজিদে কোবা
ইসলামের ইতিহাসে নির্মিত প্রথম মসজিদ এটি। এখানে দুই রাকাত নামাজ পড়লে একটি ওমরাহর সওয়াব পাওয়া যায়। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩২৪)
২. মসজিদে কিবলাতাইন
নামাজের ভেতরেই কিবলা পরিবর্তনের ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী এই ‘দুই কিবলার মসজিদ’।
৩. উহুদ পাহাড় ও শহীদদের কবরস্থান
ওহুদ যুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত এই স্থানে হজরত হামজা (রা.)-সহ ৭০ জন সাহাবির কবর রয়েছে।
৪. মসজিদে গামামাহ
মসজিদে নববির দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত এই মসজিদে নবীজি (সা.) বৃষ্টির জন্য দোয়া করেছিলেন এবং ঈদের নামাজ পড়েছিলেন।
৫. খন্দক (সাত মসজিদ)
আহজাব বা পরিখা যুদ্ধের স্মৃতিবাহী এলাকায় সাতটি ছোট ছোট মসজিদ অবস্থিত।
৬. জান্নাতুল বাকি
মসজিদে নববির পাশেই অবস্থিত প্রধান কবরস্থান। এখানে নবীজির পরিবারের সদস্য ও প্রায় ১০ হাজার সাহাবির সমাধি রয়েছে।
৭. মসজিদে জুমা
হিজরতের সময় কুবাপল্লি থেকে মদিনায় যাওয়ার পথে নবীজি (সা.) যেখানে প্রথম জুমার নামাজ পড়েছিলেন।
৮. বাদশাহ ফাহাদ কোরআন কমপ্লেক্স
বিশ্বের বৃহত্তম কোরআন মুদ্রণ কেন্দ্র। হজযাত্রীদের এখানে একটি করে কোরআন উপহার দেওয়া হয়।
মক্কার ঐতিহাসিক স্থান
১. জাবালে নুর (হেরা গুহা)
এই পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত গুহায় নবীজির কাছে প্রথম ওহি (সুরা আলাক) নাজিল হয়েছিল।
২. জাবালে সওর
হিজরতের সময় নবীজি (সা.) ও আবু বকর (রা.) এই পাহাড়ের গুহায় তিন দিন আত্মগোপন করেছিলেন।
৩. জান্নাতুল মুয়াল্লা
মক্কার প্রাচীন কবরস্থান। এখানে উম্মুল মুমিনিন হজরত খাদিজা (রা.)-সহ বহু সাহাবির সমাধি রয়েছে।
৪. মসজিদে জিন
যেখানে জিনের একটি দল নবীজির কাছে কোরআন পাঠ শুনে ইসলাম গ্রহণ করেছিল।
৫. মসজিদে হুদায়বিয়া
ঐতিহাসিক হুদায়বিয়ার সন্ধি যেখানে স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এটি মক্কা থেকে প্রায় ১৫ কিমি দূরে।
৬. জাবালে রহমত
আরাফাতের ময়দানে অবস্থিত পাহাড়। এখানে দাঁড়িয়ে নবীজি (সা.) বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন।
৭. মসজিদে নামিরা
আরাফাতের ময়দানে অবস্থিত বিশাল মসজিদ, যেখান থেকে হজের খুতবা দেওয়া হয়।
৮. মিশআলুল হারাম ও মুজদালিফা
হাজিরা যেখানে ১০ জিলহজ রাত কাটান এবং পাথর সংগ্রহ করেন।



