এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে নতুন সমীকরণ
এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে নতুন সমীকরণ

আসন্ন এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব কে করবে— তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ। ফিফার দলবদল নিষেধাজ্ঞার জটিলতায় পড়ে এএফসি ক্লাব লাইসেন্সিংয়ের প্রাথমিক দৌড়ে পিছিয়ে পড়েছে ঘরোয়া ফুটবলের দুই বড় শক্তি বসুন্ধরা কিংস ও ঢাকা আবাহনী লিমিটেড। বিপরীতে লাইসেন্সিংয়ের সব মানদণ্ড পূরণ করে চমক দেখিয়েছে ফর্টিস এফসি এবং বাংলাদেশ পুলিশ এফসি।

লাইসেন্সিংয়ের বর্তমান অবস্থা

বাফুফে সূত্র জানায়, গত শনিবার ফেডারেশনের ফার্স্ট ইনস্ট্যান্স বডি (এফআইবি) ক্লাব লাইসেন্সিংয়ের মানদণ্ড মূল্যায়ন শেষে ফর্টিস ও পুলিশ এফসি-কে সুপারিশ করেছে। নিয়ম অনুযায়ী, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের চ্যাম্পিয়নরা এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে খেলার সুযোগ পায়, তবে শর্ত হলো তাদের অবশ্যই এএফসি ক্লাব লাইসেন্স থাকতে হবে। বর্তমানে আবাহনী ও কিংসসহ লিগের বাকি ছয়টি ক্লাব প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

সুযোগের অপেক্ষায় ফর্টিস ও পুলিশ

যদি কিংস ও আবাহনী শেষ পর্যন্ত লাইসেন্স পেতে ব্যর্থ হয়, তবে লিগ টেবিলের অবস্থানে এগিয়ে থাকা সাপেক্ষে ফর্টিস বা পুলিশ এফসি প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে। বর্তমানে পয়েন্টের ব্যবধানে ফর্টিস কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ফর্টিস এফসির ম্যানেজার রাশেদুল ইসলাম জানান, তারা প্রথম প্রচেষ্টাতেই লাইসেন্স পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী এবং সুযোগ পেলে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে খেলতে আগ্রহী। তিনি বলেন, “আমরা ক্লাব লাইসেন্সিংয়ের সব প্রয়োজনীয়তা পূরণ করেছি। যদি আমরা সেরা দুইয়ে থাকতে পারি, তবে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে খেলতে আগ্রহী। এমনকি অন্য ক্লাবগুলোর সমস্যার কারণে যদি সুযোগ আসে, তবে আমরা অংশগ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করবো।”

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরবর্তী ধাপ ও সময়সীমা

লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া ১ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে নথি জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল ৩১ মার্চ। যেসব ক্লাব প্রাথমিক তালিকায় স্থান পায়নি, তারা আগামী ২৫ মে পর্যন্ত আপিল করার সুযোগ পাবে। এরপর ৩১ মে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবে।

এ প্রসঙ্গে আবাহনীর ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রূপু সাংবাদিকদের বলেছেন, “আমরা ক্লাব লাইসেন্সিংয়ের সব শর্ত পূরণ করতে, বিশেষ করে বিদেশি খেলোয়াড়দের বকেয়া বেতন পরিশোধ করে ফিফার নিবন্ধন নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে জুন পর্যন্ত সময় চেয়েছি।” তিনি আরও যোগ করেন যে, শুধুমাত্র বকেয়া বেতনই তাদের শর্ত পূরণের পথে একমাত্র বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বসুন্ধরা কিংসের কোনও কর্মকর্তা এই বিষয়ে মন্তব্য করেননি।

দেশের ফুটবল সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বড় ক্লাবগুলোর এই লাইসেন্সিং জটিলতা বাংলাদেশের এএফসি স্লট হারানোর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে ফর্টিস ও পুলিশের মতো নতুন ক্লাবগুলোর পেশাদারিত্ব দেশের ফুটবলে একটি ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।