অনেক নারী জানতে চান, তাদের কোনো আয়-ইনকাম না থাকলে কি কুরবানি ওয়াজিব হবে? ইসলামি শরিয়তে আয়-ইনকাম ও কুরবানি ওয়াজিব হওয়া ভিন্ন বিষয়। নারীর কুরবানি ওয়াজিব হওয়ার জন্য নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়াসহ কয়েকটি শর্ত রয়েছে।
নারীর কুরবানি ওয়াজিব হওয়ার শর্ত
যে নারী ঈদুল আজহার দিনগুলোতে বুদ্ধিসম্পন্ন, প্রাপ্তবয়স্ক, মুকীম এবং নিসাব পরিমাণ সম্পদের অধিকারিণী হন— অথবা তার প্রয়োজনাতিরিক্ত এমন পরিমাণ অর্থ-সম্পদ বা সামগ্রী থাকে, যার মূল্য সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার সমপরিমাণ হয়— তার ওপর কুরবানি করা ওয়াজিব ও আবশ্যক। তাই কোনো নারী যদি এসব শর্তের অধিকারিণী হন, তবে তাঁর জন্য প্রতি বছর কুরবানি আদায় করা জরুরি।
শরঈ দলিল
হানাফি মাজহাবের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ দুররুল মুখতার ও রুদ্দুল মুহতার-এ বলা হয়েছে: ‘কুরবানির ওয়াজিব হওয়ার শর্ত হলো— মুসলিম হওয়া, মুকিম (নিজ এলাকায় অবস্থানকারী) হওয়া এবং এমন সামর্থ্যবান হওয়া, যার উপর সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব হয়। পুরুষ হওয়া শর্ত নয়; তাই নারীর উপরও কুরবানি ওয়াজিব হয়।’ ‘সামর্থ্যবান’ বলতে বোঝানো হয়েছে— কারো কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত এমন সম্পদ থাকা, যার মূল্য দুইশত দিরহামের সমপরিমাণ। যেমন— অতিরিক্ত মাল-সম্পদ, ব্যবসার পণ্য ইত্যাদি। তাহলে তার উপর কুরবানি করা আবশ্যক হবে।
এছাড়া ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া-তে উল্লেখ আছে: ‘কুরবানি ওয়াজিব হয় এমন স্বাধীন মুসলিমের উপর, যে নিজের মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক। ইখতিয়ার শরহুল মুখতার গ্রন্থেও এভাবেই উল্লেখ আছে। এ নিসাবের ক্ষেত্রে সম্পদ বৃদ্ধি পাওয়ার উপযোগী হওয়া শর্ত নয়। আর এই নিসাবের সাথেই কুরবানি ওয়াজিব হওয়া এবং আত্মীয়স্বজনের ভরণ-পোষণের কিছু বিধান সম্পর্কিত। ফাতাওয়া কাজী খান-এও এভাবেই বর্ণিত হয়েছে।’
সারসংক্ষেপ
নারীর আয়-ইনকাম না থাকলেও যদি তার কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ (যেমন: সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার সমমূল্যের অর্থ বা পণ্য) থাকে, তবে তার ওপর কুরবানি ওয়াজিব। শর্তগুলো হলো: মুসলিম, বুদ্ধিসম্পন্ন, প্রাপ্তবয়স্ক, মুকীম এবং নিসাবের মালিক। এই শর্ত পূরণ করলে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই কুরবানি আবশ্যক।



