গায়ের মাহরামের সামনে নারীদের পর্দা করা ফরজ। তবে বোরকা বা ঢিলেঢালা পোশাক পরে শুধু মুখমণ্ডল ও হাতের কব্জি পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে কিনা, এ নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। সম্প্রতি এ বিষয়ে মুখ খুলেছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ।
কুরআনের আয়াতের ব্যাখ্যা
শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, পর্দার পরিধি ও সীমানা সম্পর্কে আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেছেন, 'তাদের সৌন্দর্যকে প্রকাশ করবে না, যেটুকু বাহ্যিক অংশ সেগুলো বাদে'। এখানে বাহ্যিক অংশ বলতে অনেক মুফাসসির পর্দার পোশাকের বাইরের অংশকে বোঝিয়েছেন, যা অনিবার্যভাবে প্রকাশ পায়। ওই অংশ বাদে নারীর সমস্ত সৌন্দর্য আবৃত করতে হবে, যার মধ্যে মুখমণ্ডলও শামিল।
মুখমণ্ডল পর্দার অন্তর্ভুক্ত
এই আয়াতের আলোকে অনেক আলেম মুখমণ্ডল খোলা জায়েজ বললেও সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমের মত হলো মুখমণ্ডল পর্দার অন্তর্ভুক্ত। কারণ মানুষের সৌন্দর্যের কেন্দ্র তার মুখমণ্ডল। যদি তা খোলা থাকে, তাহলে সৌন্দর্য ঢাকার নির্দেশ সেভাবে পালিত হয় না।
হজরত আয়েশা (রা.)-এর হাদিস থেকে বোঝা যায়, তিনি গায়ের মাহরাম পুরুষ এলে মাথার কাপড় টেনে মুখমণ্ডল ঢাকার চেষ্টা করতেন। এটি প্রমাণ করে মুখমণ্ডল পর্দার অন্তর্ভুক্ত।
ওলামায়ে মুতাকাদ্দিমিনের মত
তবে ওলামায়ে মুতাকাদ্দিমিন (প্রাচীন আলেমরা) বলেছেন, মুখমণ্ডল খোলা রাখা জায়েজ। কিন্তু খোলা রাখা আর প্রদর্শন করা ভিন্ন। বর্তমানে অনেকে এমনভাবে হিজাব পরেন যেন মুখমণ্ডল আলাদাভাবে উপস্থাপিত হয়, যা পর্দার সীমানার মধ্যে পড়ে না।
শায়খ আহমাদুল্লাহ সর্বশেষ বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমদের মতই অধিকতর নিরাপদ ও অগ্রগণ্য।



