ইসলামী শরিয়তে শরীরে উল্কি বা ট্যাটু অঙ্কন করা নাজায়েজ ও হারাম। কারণ এটি ফাসেক-ফুজ্জার ও কাফেরদের সংস্কৃতি বলে গণ্য। এছাড়া এমন ট্যাটু যদি পানির প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে অজু ও ফরজ গোসল সহিহ হবে না। তাই মুসলমানদের জন্য এ কাজ থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।
যারা ট্যাটু আঁকিয়ে ফেলেছেন তাদের করণীয়
অনেক মানুষ জীবনের কোনো এক সময় শরীরে ট্যাটু বা উল্কি আঁকিয়ে ফেলেন এবং পরে নিজের ভুল বুঝতে পারেন। সাধারণ ট্যাটু ওঠানো সম্ভব, কিন্তু স্থায়ী ট্যাটু ওঠানো সহজ নয় এবং খরচসাপেক্ষ। সেক্ষেত্রে যারা ট্যাটু ওঠাতে অক্ষম, তাদের জন্য ইসলামী নির্দেশনা কী?
তওবা ও ইবাদত চালিয়ে যাওয়া
যারা ভুল বুঝতে পেরেছেন, তাদের উচিত আল্লাহর কাছে খাস দিলে তওবা করা। যদি ট্যাটুর ওপর দিয়ে পানি ত্বকে পৌঁছে, তাহলে অজু ও গোসল সহিহ হবে। কিন্তু পানি না পৌঁছালে অজু ও গোসল সহিহ হবে না। তাই যে কোনো উপায়ে ট্যাটু অপসারণ করা আবশ্যক। অপসারণের আগ পর্যন্ত আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে ইবাদত চালিয়ে যেতে হবে।
হাদিসের আলোকে ট্যাটুর বিধান
হজরত ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: ‘যে ব্যক্তি যার সাদৃশ্য গ্রহণ করে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।’ (আবু দাউদ ৪০৩১)
হজরত ইবনে ওমর (রা.) আরও বর্ণনা করেন: ‘যেসব নারী নকল চুল ব্যবহার করে এবং যারা অন্য নারীকে নকল চুল এনে দেয়, যেসব নারী উল্কি অঙ্কন করে এবং যাদের জন্য করে, রাসুলুল্লাহ (সা.) তাদের অভিশাপ দিয়েছেন।’ (বুখারি ৫৫৯৮, মুসলিম ৫৬৯৩)
হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত: ‘যেসব নারী সৌন্দর্যের জন্য উল্কি অঙ্কন করে এবং যাদের জন্য করে, যেসব নারী ভ্রু উৎপাটন করে এবং দাঁত ফাঁকা করে, আল্লাহ তাআলা তাদের অভিসম্পাত করেছেন।’ (বুখারি ৫৬০৪)
সুতরাং ট্যাটু বা উল্কি অঙ্কন করা থেকে বিরত থাকা জরুরি। যারা ইতোমধ্যে করে ফেলেছেন, তারা তওবা করে ট্যাটু অপসারণের চেষ্টা করবেন এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবেন।



