হজ ও ওমরাহ পালনের সময় ইহরাম অবস্থায় থাকা এবং তালবিয়া পাঠের অসামান্য প্রতিদান সম্পর্কে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সুস্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা দিয়েছেন। ইসলামের এই গুরুত্বপূর্ণ আমল দুটি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। হজ ও ওমরার জন্য সেলাইবিহীন দুই টুকরো কাপড় পরে ইহরাম বাঁধা আবশ্যক, আর ইহরামের পর পুরুষদের জন্য অন্তত একবার উচ্চস্বরে তালবিয়া পড়া শর্ত। তবে বারবার তালবিয়া পাঠকারীর জন্য রয়েছে সরাসরি জান্নাতের সুসংবাদ।
ইহরাম ও তালবিয়ার ফজিলত
হাদিসের আলোকে ইহরাম ও তালবিয়ার ফজিলত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিচে কয়েকটি হাদিস উল্লেখ করা হলো:
১. গুনাহ মাফের প্রতিশ্রুতি
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: 'কোনো মুমিন যখন ইহরাম অবস্থায় দিন কাটায়, তখন সূর্য তার সব গুনাহ নিয়ে অস্ত যায়। আর যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজের তালবিয়া পাঠ করে, তখন তার ডানে-বামে পৃথিবীর শেষ প্রান্ত পর্যন্ত সবকিছুই তার পক্ষে সাক্ষ্য দেয়।' (তিরমিজি, তারগিব)
২. প্রকৃতির সাক্ষ্য
হজরত সাহল ইবনে সাদ আস-সায়েদি (রা.) বর্ণনা করেন, নবী (সা.) বলেছেন: 'কোনো ব্যক্তি যখন তালবিয়া পাঠ করে, তখন তার ডানে ও বামে পৃথিবীর শেষ প্রান্ত পর্যন্ত যা কিছু আছে— যেমন গাছপালা, মাটি, পাথর— সব কিছু তালবিয়া পড়তে থাকে।' (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ)
৩. জান্নাতের সুসংবাদ
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: 'যে কেউ তালবিয়া পাঠ করবে তাকে সুসংবাদ দেওয়া হবে। আর যে কেউ তাকবির বলবে তাকেও সুসংবাদ দেওয়া হবে।' সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, 'হে আল্লাহর রাসুল! জান্নাতের সুসংবাদ?' নবী (সা.) উত্তর দিলেন: 'হ্যাঁ।' (তাবারানি, তারগিব)
তালবিয়া পাঠের নিয়ম
হজের সফরে হজ পালনকারীদের বেশি বেশি তালবিয়া পড়া উচিত। তালবিয়া পাঠের সময় পুরুষরা উচ্চস্বরে এবং নারীরা নিম্নস্বরে চার নিঃশ্বাসে পড়বেন। তালবিয়ার আরবি পাঠ, উচ্চারণ ও অর্থ নিম্নরূপ:
- আরবি: لَبَّيْكَ اَللّهُمَّ لَبَّيْكَ – لَبَّيْكَ لاَ شَرِيْكَ لَكَ لَبَّيْكَ – اِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ – لاَ شَرِيْكَ لَكَ
- উচ্চারণ: 'লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নি'মাতা লাকা ওয়াল মুল্ক, লা শারিকা লাক।'
- অর্থ: 'আমি হাজির হে আল্লাহ! আমি হাজির; আমি উপস্থিত, তোমার কোনো অংশীদার নেই; আমি উপস্থিত, নিশ্চয় যাবতীয় প্রশংসা, অনুগ্রহ ও সম্রাজ্য সবই তোমার, তোমার কোনো অংশীদার নেই।' (মুয়াত্তা, তিরমিজি)
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হাদিসে ঘোষিত হজ ও ওমরার সফরে ইহরাম অবস্থায় থাকার ও তালবিয়া পাঠের ফজিলত দান করুন এবং হজ পালনকারীদের হজ ও ওমরাহ কবুল করুন। আমিন।



