গ্রামাঞ্চলে একটি প্রচলিত বিশ্বাস রয়েছে যে, যদি কারও হাত থেকে অনিচ্ছাকৃতভাবে কুরআন মাজিদ পড়ে যায়, তাহলে সেই কুরআন শরিফ ওজন করে সমপরিমাণ চাল বা গম সদকা করতে হয়। বিশেষ করে নারীদের মধ্যে এই ধারণাটি বেশি প্রচলিত। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই বিশ্বাসটি কি সত্যিই ইসলামি শরিয়তসম্মত? আর যদি কখনো দুর্ঘটনাবশত এমন ঘটনা ঘটে যায়, তাহলে একজন মুসলমানের করণীয় কী?
প্রচলিত ধারণার সত্যতা
ইসলামি শরিয়তে কুরআন মাজিদ হাত থেকে পড়ে গেলে তা ওজন করে চাল বা গম দেওয়ার কোনো নির্দেশনা নেই। বরং, সদকা দেওয়ার উদ্দেশ্য হলেও কুরআন মাজিদ ওজন করা এক ধরনের বেআদবি হিসেবে গণ্য হয়। এটি একটি ভুল ধারণা যা সমাজে প্রচলিত হয়েছে, কিন্তু এর কোনো ভিত্তি ইসলামি বিধানে নেই।
করণীয় কী?
যদি কখনো অনিচ্ছাকৃতভাবে কুরআন মাজিদ হাত থেকে পড়ে যায়, তাহলে প্রথমে মহান আল্লাহ তাআলার কাছে ইস্তেগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত। এক্ষেত্রে কুরআন মাজিদ ওজন না করেও কেউ যদি কিছু সদকা করতে চান, তাহলে তাতে কোনো অসুবিধা নেই। তবে সেটি কুরআনের ওজনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, বরং সাধারণ সদকা হিসেবে গণ্য হবে। (সূত্র: ইমদাদুল ফাতাওয়া ৪/৬০)
উপসংহার
সুতরাং, কুরআন মাজিদ হাত থেকে পড়ে গেলে ওজন করে চাল বা গম দেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা ইসলামে নেই। এটি একটি ভুল ধারণা যা পরিত্যাগ করা উচিত। বরং, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং সম্ভব হলে সাধারণ সদকা করা উত্তম। কুরআন মাজিদের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান ও আদব বজায় রাখা প্রতিটি মুসলমানের কর্তব্য।



