মানুষ ভুল করে, গুনাহ করে, কখনো কখনো নিজের ভুলের ভারে এতটাই নুয়ে পড়ে যে মনে করে—‘আমার মতো পাপীকে আল্লাহ আর ক্ষমা করবেন না।’ আর এখানেই শয়তানের সবচেয়ে বড় ধোঁকা। সে চায় মানুষ গুনাহের চেয়ে বড় অপরাধ করুক— আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ে যাক। কিন্তু একজন মুমিনের জন্য সুসংবাদ হলো— আল্লাহ তাআলার রহমত তাঁর ক্রোধকে অতিক্রম করেছে। যত বড় পাপই হোক না কেন, তাওবার দরজা বন্ধ হয়নি যতক্ষণ না মৃত্যুর সময় উপস্থিত হয়।
আল্লাহর অশেষ রহমতের ঘোষণা
মহান আল্লাহ বান্দাকে অভয় দিয়ে ঘোষণা করেন— ‘বলুন, হে আমার বান্দারা! যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেন। তিনি তো পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা আয-যুমার: আয়াত ৫৩)
হাদিসের সুসংবাদ
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— ‘আদম সন্তানের প্রত্যেকেই ভুলকারী, আর ভুলকারীদের মধ্যে সর্বোত্তম তারা, যারা বেশি বেশি তাওবা করে।’ (আত-তিরমিজি ২৪৯৯)
রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন— ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ রাতে তার ক্ষমার হাত প্রসারিত করেন যাতে দিনের গুনাহগার তাওবা করতে পারে, আর দিনে তার ক্ষমার হাত প্রসারিত করেন যাতে রাতের গুনাহগার তাওবা করতে পারে।’ (মুসলিম ২৭৫৯)
শয়তানের ফাঁদ থেকে সাবধান
শয়তান কখনো চায় না মানুষ তাওবা করুক। তাই সে মানুষের কানে ফিসফিস করে— ‘তোমার গুনাহ অনেক বেশি। তোমার তাওবা কবুল হবে না। তুমি অনেক দূরে চলে গেছো। এখন আর ফিরে এসে লাভ নেই।’ কিন্তু এগুলো সবই শয়তানের প্রতারণা। কারণ আল্লাহ বলেননি, ‘অনেক গুনাহ করলে আমি আর ক্ষমা করব না।’ বরং তিনি বলেছেন, ‘আমার রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না।’
আপনার অতীত যত অন্ধকারই হোক, আল্লাহর রহমত তার চেয়েও অনেক বেশি বিস্তৃত। গুনাহ মানুষকে ধ্বংস করে না; ধ্বংস করে তাওবা ছেড়ে দেওয়া এবং আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া। তাই আজই আল্লাহর দিকে ফিরে আসুন। চোখের অশ্রু, অনুতপ্ত হৃদয় এবং আন্তরিক তাওবার মাধ্যমে রবের দরজায় কড়া নাড়ুন। কারণ তিনি সেই মহান সত্তা, যিনি পাপীকে ঘৃণা করেন না; বরং তাওবাকারী বান্দাকে ভালোবাসেন। আর— ‘আল্লাহর রহমত থেকে কখনো নিরাশ হবেন না; কারণ যে হৃদয় তাওবা করে, আল্লাহ তার জন্য ক্ষমার দরজা খুলে দেন।’



