মাদকসেবীর সঙ্গে শরিকে কুরবানি: ইসলাম কী বলে?
মাদকসেবীর সঙ্গে শরিকে কুরবানি: ইসলাম কী বলে?

পবিত্র ঈদুল আজহার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো কুরবানি। বিশেষ করে গরু বা উটে একাধিক ব্যক্তি শরিক হয়ে কুরবানি করে থাকেন। কিন্তু অনেক সময় প্রশ্ন ওঠে— যদি কোনো শরিক মাদকসেবী বা মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি হন, তাহলে কি অন্যদের কুরবানি সহিহ হবে? এমন ব্যক্তির সঙ্গে শরিকে কুরবানি করা শরিয়তের দৃষ্টিতে বৈধ কি না— এ বিষয়ে ইসলামি ফিকহে সুস্পষ্ট আলোচনা রয়েছে।

ইসলাম একদিকে যেমন হারাম কাজ থেকে দূরে থাকতে নির্দেশ দিয়েছে, অন্যদিকে ইবাদতের সহিহ হওয়ার ক্ষেত্রেও কিছু নির্দিষ্ট নীতিমালা নির্ধারণ করেছে। তাই আবেগ নয়, বরং কুরআন-সুন্নাহ ও ফিকহের আলোকে বিষয়টি বোঝা জরুরি।

মাদক সম্পর্কে ইসলামের কঠোর অবস্থান

মাদক সেবন ও কারবার (ব্যবসা) ইসলামি শরিয়তে স্পষ্ট হারাম। মহান আল্লাহ তাআলা বলেন— يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنْصَابُ وَالْأَزْلَامُ رِجْسٌ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ ‘হে মুমিনগণ! নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, প্রতিমা ও ভাগ্য নির্ধারণের শরসমূহ শয়তানের অপবিত্র কাজ। অতএব এগুলো থেকে দূরে থাকো।’ (সুরা আল-মায়িদাহ: আয়াত ৯০)

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— كُلُّ مُسْكِرٍ حَرَامٌ ‘প্রত্যেক নেশাজাতীয় বস্তু হারাম।’ (মুসলিম ২০০৩)

আরেক হাদিসে এসেছে— لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فِي الْخَمْرِ عَشَرَةً ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) মদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দশ শ্রেণির মানুষের ওপর লানত করেছেন।’ (আবু দাউদ ৩৬৭৪) এর মধ্যে মদ প্রস্তুতকারী, বিক্রেতা, বহনকারী ও পানকারী সবাই অন্তর্ভুক্ত।

মাদক কারবারি, মাদকসেবী বা ফাসেক ব্যক্তির সঙ্গে শরিকে কুরবানি করলে কী হবে?

ফিকহবিদদের মতে, যদি কোনো ব্যক্তি মুসলমান হন এবং কুরবানির নিয়তে শরিক হন, তাহলে তার ব্যক্তিগত পাপ বা ফাসেকি অন্য শরিকদের কুরবানিকে বাতিল করবে না। অর্থাৎ, কেউ যদি মাদকাসক্ত বা গুনাহগার হন, কিন্তু তিনি মুসলমান এবং কুরবানির নিয়তে শরিক হন এবং কুরবানির শরিকানার টাকা হালাল হয়, তাহলে সাধারণভাবে কুরবানি সহিহ হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ব্যতিক্রম— যদি মাদক কারবারি, মাদকসেবী বা ফাসেক ব্যক্তির উপার্জন হারাম হয়। তাদের উপার্জিত কুরবানির শরিকানার টাকা যদি হালাল বা বৈধ উপার্জনের না হয়ে মাদকের কারবারের সঙ্গে জড়িত টাকায় হয়, তবে সে কুরবানি বাতিল হয়ে যাবে। অর্থাৎ যদি তার উপার্জনের সম্পূর্ণটাই হারাম হয়, যেমন— মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি বা সুদের টাকাই একমাত্র আয়— তাহলে বিষয়টি অন্যের শরিকানাকেও হারাম করে দেয়। কারো কুরবানিই সহিহ হবে না।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— إِنَّ اللَّهَ طَيِّبٌ لَا يَقْبَلُ إِلَّا طَيِّبًا ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র, তিনি কেবল পবিত্র জিনিসই গ্রহণ করেন।’ (মুসলিম ১০১৫)

ইসলামিক স্কলাররা বলেন, মাদকসেবী বা প্রকাশ্য গুনাহগারের সঙ্গে শরিকে কুরবানি না করাই উত্তম। কারণ এতে ইবাদতের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হতে পারে এবং সমাজে খারাপ বার্তা যেতে পারে। তবে তার কারণে কুরবানি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়— এমন নয়।

কাদের সঙ্গে শরিকে কুরবানি করা থেকে বিরত থাকা উচিত?

নিম্নোক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে শরিকে কুরবানি করা থেকে সতর্ক থাকা ভালো—

  • প্রকাশ্য মাদক ব্যবসায়ী
  • সুদ ও হারাম আয়ের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তি
  • শুধুমাত্র গোশতের উদ্দেশ্যে শরিক হওয়া ব্যক্তি
  • ইসলামের মৌলিক বিধান নিয়ে উপহাসকারী ব্যক্তি

কারণ ইবাদতের ক্ষেত্রে তাকওয়া ও হালাল উপার্জনের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।

মাদকসেবী বা গুনাহগার ব্যক্তির সঙ্গে শরিকে কুরবানি করলে সাধারণভাবে কুরবানি সহিহ হয়ে যায়, যদি সে মুসলমান হয়, কুরবানির নিয়ত রাখে এবং উপার্জন বৈধ হয়। তবে হারাম উপার্জনের টাকায় কুরবানি বৈধ হবে না। ইবাদতের পবিত্রতা রক্ষার জন্য উত্তম ও তাকওয়াবান মানুষের সঙ্গে শরিকে কুরবানি করাই বেশি নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে হালাল উপার্জন, বিশুদ্ধ নিয়ত ও তাকওয়ার সঙ্গে কুরবানি আদায় করার তৌফিক দান করুন। আমিন।