কুরবানির সময় ঘনিয়ে এলে মুসলিমদের মনে প্রায়ই প্রশ্ন জাগে—গরু বা ছাগলের দাঁত না উঠলে কি কুরবানি সহিহ হবে? অনেকের ধারণা, দুধের দাঁত না পড়লে বা নতুন দাঁত না উঠলে পশু কুরবানির উপযুক্ত নয়। কিন্তু ইসলামি শরিয়তে মূল বিবেচ্য বিষয় হলো পশুর নির্ধারিত বয়স পূর্ণ হওয়া। দাঁত ওঠা বা পড়া বয়স নির্ধারণের একটি সাধারণ আলামত মাত্র। তাই এ বিষয়ে সঠিক জ্ঞান থাকা জরুরি, যেন অজ্ঞতার কারণে কেউ বিভ্রান্ত না হন।
হাদিসের আলোকে কুরবানির শর্ত
হজরত জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— لَا تَذْبَحُوا إِلَّا مُسِنَّةً অর্থাৎ 'তোমরা উপযুক্ত বয়সে উপনীত পশু ছাড়া কুরবানি করো না।' (মুসলিম ১৯৬৩) এই হাদিস স্পষ্টভাবে বয়সকেই কুরবানির শর্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছে, দাঁতকে নয়।
পশুর নির্ধারিত বয়স কী?
কুরবানি শুদ্ধ হওয়ার জন্য পশুর নির্দিষ্ট বয়সসীমা পার হওয়া জরুরি। গরুর ক্ষেত্রে 'মুসিন্না' হলো সেই পশু যার দুই বছর পূর্ণ হয়েছে। আর ভেড়া ও ছাগলের ক্ষেত্রে 'মুসিন্না' হলো সেই পশু যার এক বছর পূর্ণ হয়েছে। সুতরাং, গরুর দুই বছর এবং ভেড়া-ছাগলের এক বছর পূর্ণ হলে, দুধের দাঁত না পড়লেও কিংবা নতুন দাঁত না উঠলেও সেই পশু দিয়ে কুরবানি শুদ্ধ হবে।
দাঁত ও বয়সের সম্পর্ক
সাধারণ অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, ভেড়া-ছাগলের এক বছর পূর্ণ হলে এবং গরুর দুই বছর পূর্ণ হলে সাধারণত তাদের দুধের দাঁত পড়ে যায়। এ কারণে মানুষ দাঁত দেখে পশুর বয়স অনুমান করে থাকে। শরিয়তের দৃষ্টিতে দাঁত দেখে বয়স নির্ধারণের চেষ্টা করা বৈধ এবং এতে কোনো সমস্যা নেই। তবে এটি একটি অনুমানমাত্র, নিশ্চিত নয়।
নিশ্চিত বয়স থাকলে দাঁতের প্রয়োজন নেই
যদি নিশ্চিতভাবে জানা যায় যে গরুর বয়স দুই বছর পূর্ণ হয়েছে কিংবা ছাগলের বয়স এক বছর পূর্ণ হয়েছে, তাহলে দাঁত না উঠলেও বা দুধের দাঁত না পড়লেও সেই পশু দিয়ে কুরবানি আদায় সহিহ হবে। ইসলামে কুরবানির ক্ষেত্রে বাহ্যিক ধারণার চেয়ে শরিয়তের নির্ধারিত বিধানই অধিক গুরুত্বপূর্ণ। পশুর দাঁত ওঠা বা পড়া মূল শর্ত নয়; বরং নির্ধারিত বয়স পূর্ণ হওয়াই কুরবানির বৈধতার আসল ভিত্তি।
কুরবানির পশু কেনার সময় করণীয়
কুরবানির পশু কেনার সময় কেবল দাঁত নয়, নির্ভরযোগ্যভাবে বয়স নিশ্চিত করার দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। পশুর জন্ম তারিখ জেনে নেওয়া বা বিশ্বস্ত বিক্রেতার কাছ থেকে বয়স সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া ভালো। সঠিক জ্ঞান ও সচেতনতা আমাদের ইবাদতকে আরও শুদ্ধ ও গ্রহণযোগ্য করে তোলে।



