তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন রোববার বলেছেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে তথ্য ও সম্প্রচার সহযোগিতায় স্বাক্ষরিত চারটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) দেশের মিডিয়া খাতে গুণগত পরিবর্তন আনবে।
প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে স্বাক্ষরিত চুক্তি
প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের সময় স্বাক্ষরিত এমওইউগুলোর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, দুই দেশ মিডিয়া খাতে জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি ভাগাভাগিতে একসঙ্গে কাজ করতে সম্মত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘তথ্যমন্ত্রী হিসেবে আমি চীনা সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে চারটি এমওইউ স্বাক্ষর করেছি। এই চুক্তির মাধ্যমে আমরা তথ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আমাদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা যৌথভাবে বিনিময় করতে সম্মত হয়েছি।’
স্বপন আরও জানান, তিনি আরও দুটি এমওইউ অনানুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করেছেন, যার বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
চুক্তির মূল লক্ষ্য
গত ২৫ জুন বাংলাদেশ ও চীন মিডিয়া খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করতে, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও তথ্য বিনিময় সম্প্রসারণে চারটি এমওইউ স্বাক্ষর করে। এমওইউগুলো সংবাদ ও তথ্য বিনিময়ে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা, মিডিয়া খাতে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠা, গ্লোবাল সাউথ মিডিয়া সম্পর্কিত যৌথ গবেষণা এবং সম্প্রচার ও প্রযুক্তি ব্যবহারে সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় সম্প্রসারণে সহায়তা করবে।
এগুলো বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব আরও জোরদার করবে এবং মিডিয়া ও তথ্য খাতে সহযোগিতার নতুন পথ খুলে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় সহযোগিতা
স্বপন বলেন, উন্নত মিডিয়া প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) গবেষণায় চীনের দক্ষতা থেকে বাংলাদেশ উপকৃত হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত দেশ চীনের সঙ্গে মিডিয়া প্রযুক্তি ও এআই-ভিত্তিক গবেষণায় সহযোগিতা করতে সম্মত হয়েছি। এই যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশের নতুন মিডিয়া খাতে একটি গুণগত পরিবর্তন আনতে সক্ষম হব বলে বিশ্বাস করি।’
মন্ত্রী আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর বেইজিং সফরে মোট ১৭টি এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়। এর মধ্যে ১৩টি প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমান ও চীনা প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর পিপলস গ্রেট হলে তাদের উপস্থিতিতে স্বাক্ষরিত হয়, আর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত ছয়টি তার পক্ষে স্বাক্ষরিত হয়।
চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের আন্তরিকতা
চীনের শীর্ষ নেতৃত্ব বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলকে যে গুরুত্ব ও সম্মান দেখিয়েছে তা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের শক্তি প্রতিফলিত করে বলে মন্তব্য করেন স্বপন। তিনি বলেন, ‘চীনা প্রেসিডেন্ট, চীনা প্রধানমন্ত্রী ও চীনা পার্লামেন্টের স্পিকারের কাছ থেকে আমরা যে সম্মান, গুরুত্ব ও আলোচনা পেয়েছি তা আমাদের আস্থা জোরদার করেছে যে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আমাদের অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক অবস্থানকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।’
প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমানের চীন সফরকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি। স্বপন বলেন, ‘এটি দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর। চীনের আন্তরিকতা ও আতিথেয়তায় আমরা গভীরভাবে মুগ্ধ। আমাদের প্রতিনিধিদলের প্রতি যে আন্তরিকতা দেখানো হয়েছে তা বাংলাদেশের জনগণের প্রতি চীনের সদিচ্ছা প্রতিফলিত করে।’
প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মন্তব্যের উল্লেখ করে স্বপন বলেন, চীনা নেতা আশা প্রকাশ করেছেন যে এ সফর বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি
প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বিদেশ সফরে ২১ থেকে ২৬ জুন মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন। চীন সফরের সময় তিনি ডালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের নিউ চ্যাম্পিয়নস বার্ষিক সভা (সামার দাভোস) অংশ নেন এবং পরে বেইজিং যান। বেইজিংয়ে তিনি চীনা প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং ও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। এছাড়া ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান চাও লে জির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।
বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শাহিদুদ্দিন চৌধুরী এনী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, এ কে এম শামসুল ইসলাম, রশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ও মাহদি আমিন।



