সুপারগার্লের ব্যর্থতা, টয় স্টোরি ৫-এর দাপট: হলিউড বক্স অফিস আপডেট
সুপারগার্লের ব্যর্থতা, টয় স্টোরি ৫-এর দাপট

হলিউডের গ্রীষ্মকালীন বক্স অফিসে বড় ধাক্কা খেয়েছে ‘সুপারগার্ল’। বহুল আলোচিত ডিসি কমিকসনির্ভর ছবিটি মুক্তির প্রথম সপ্তাহান্তে প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম আয় করেছে। অন্যদিকে দর্শকদের বিপুল আগ্রহ ধরে রেখে টানা দ্বিতীয় সপ্তাহেও বক্স অফিসের শীর্ষস্থান দখল করে রেখেছে ‘টয় স্টোরি ৫’।

প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম সূচনা

ওয়ার্নার ব্রাদার্স ও ডিসি স্টুডিওর যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত ‘সুপারগার্ল’ উত্তর আমেরিকার ৩ হাজার ৬০০ প্রেক্ষাগৃহ থেকে আয় করেছে মাত্র ৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার। আন্তর্জাতিক বাজার মিলিয়ে ছবিটির বৈশ্বিক উদ্বোধনী আয় দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৮০ লাখ ডলার। ছবিটি মুক্তির আগে বিশ্লেষকেরা ধারণা করেছিলেন, প্রথম সপ্তাহান্তেই উত্তর আমেরিকায় ৫ কোটি থেকে ৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার আয় করবে। কিন্তু বাস্তবে সেই লক্ষ্যও পূরণ হয়নি।

বিষয়টি আরও উদ্বেগের কারণ, ‘সুপারগার্ল’ নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৭ কোটি ডলার। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিপুল প্রচারণা ব্যয়। সাধারণ হিসাবে এমন বাজেটের একটি ছবিকে লাভের মুখ দেখতে বিশ্বব্যাপী অন্তত ৩৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার আয় করতে হয়; যদিও ছবির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের দাবি, তাদের হিসাবে ব্রেক-ইভেন পয়েন্ট প্রায় ৩০ কোটি ডলার।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সমালোচক-দর্শক—কেউই পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন

ছবিটি সমালোচকদের কাছ থেকেও আশানুরূপ প্রশংসা পায়নি। সমালোচনাবিষয়ক ওয়েবসাইট রটেন টোমাটোজে ছবিটির স্কোর মাত্র ৫৬ শতাংশ। দর্শকদের প্রতিক্রিয়াও খুব ইতিবাচক নয়। সিনেমাস্কোরে জরিপে ছবিটি পেয়েছে ‘বি মাইনাস’ গ্রেড। প্রথম সপ্তাহান্তের দর্শকদের ৫৯ শতাংশই ছিলেন পুরুষ। অর্থাৎ ছবিটি মূলত সুপারহিরো ঘরানার নির্দিষ্ট দর্শকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে, সাধারণ দর্শকের কাছে তেমন সাড়া ফেলতে পারেনি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ছবিতে সুপারগার্ল চরিত্রে অভিনয় করেছেন মিলি অ্যালকক। তাঁর সঙ্গে রয়েছে সুপারডগ ক্রিপ্টো। মহাকাশে অভিযানের সময় রুথি নামের এক ভিনগ্রহের কিশোরীর সঙ্গে পরিচয়ের পর প্রতিশোধ ও ন্যায়বিচারের অভিযানে নামে সুপারগার্ল। ছবিটি পরিচালনা করেছেন ক্রেইগ গিলেস্পি।

‘সুপারম্যান’-এর সাফল্যের পর প্রথম ধাক্কা

এক বছর আগে মুক্তি পাওয়া ‘সুপারম্যান’ দিয়েই জেমস গান ও পিটার সাফরান নতুন ডিসি ইউনিভার্সের যাত্রা শুরু করেছিলেন। সেই ছবি উত্তর আমেরিকায় উদ্বোধনী সপ্তাহান্তে আয় করেছিল ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলার এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে সংগ্রহ করে ৬১ কোটি ৮০ লাখ ডলার। সে সময় ডিসি ইউনিভার্সের ১০ বছরের পরিকল্পনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন হর্তাকর্তারা। কিন্তু ‘সুপারগার্ল’-এর দুর্বল সূচনা সেই পরিকল্পনার পথ যে খুব সহজ হবে না, সেটাই স্পষ্ট করে দিল।

বিশ্লেষকদের মতে, সুপারম্যান বিশ্বের অন্যতম পরিচিত সুপারহিরো হলেও সুপারগার্ল সেই অর্থে মূলধারার দর্শকদের কাছে ততটা জনপ্রিয় নন। ফলে কম পরিচিত ডিসি চরিত্রদের নিয়ে ভবিষ্যতে বড় বাজেটের ছবি নির্মাণের ক্ষেত্রে স্টুডিওকে নতুন করে ভাবতে হতে পারে।

‘টয় স্টোরি ৫’-এর দাপট অব্যাহত

নতুন দুটি ছবি মুক্তি পেলেও শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ‘টয় স্টোরি ৫’। দ্বিতীয় সপ্তাহান্তে ছবিটি আয় করেছে ৭ কোটি ডলার। প্রথম সপ্তাহের তুলনায় আয় কমেছে ৫৫ শতাংশ, যা বড় অ্যানিমেশন ছবির জন্য স্বাভাবিক ধরা হয়। মাত্র ১২ দিনে ছবিটির উত্তর আমেরিকায় আয় দাঁড়িয়েছে ২৯ কোটি ৭০ লাখ ডলার এবং বিশ্বব্যাপী ৫৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

বিশ্লেষকদের ধারণা, শেষ পর্যন্ত এটি ‘টয় স্টোরি’ সিরিজের সবচেয়ে বেশি আয় করা ছবি হতে পারে। বর্তমানে সেই রেকর্ড রয়েছে ‘টয় স্টোরি ৪’-এর, যার বৈশ্বিক আয় ছিল ১০৭ কোটি ডলার।

‘অবসেশন’-এর অবিশ্বাস্য সাফল্য

সপ্তম সপ্তাহেও বক্স অফিসে দারুণভাবে টিকে আছে স্বল্প বাজেটের হরর ছবি ‘অবসেশন’। সপ্তাহান্তে ছবিটি আয় করেছে ৯৮ লাখ ডলার। আগের সপ্তাহের তুলনায় আয় কমেছে মাত্র ২৭ শতাংশ। এ পর্যন্ত ছবিটির উত্তর আমেরিকায় আয় ২৩ কোটি ৩৯ লাখ ডলার এবং বিশ্বব্যাপী ৩৭ কোটি ডলার। কম বাজেটের এই হরর চলচ্চিত্রটি ফোকাস ফিচারসের ইতিহাসে অন্যতম লাভজনক ছবিতে পরিণত হয়েছে।

‘জ্যাকঅ্যাস’-এরও হতাশাজনক শুরু

এই সপ্তাহের আরেক নতুন মুক্তি ‘জ্যাকঅ্যাস: বেস্ট অ্যান্ড লাস্ট’-এর অবস্থাও খুব একটা ভালো নয়। উত্তর আমেরিকায় ছবিটি আয় করেছে মাত্র ৮৪ লাখ ডলার। আন্তর্জাতিক বাজার মিলিয়ে মোট উদ্বোধনী আয় ১ কোটি ৩০ লাখ ডলার। এটি পুরো ‘জ্যাকঅ্যাস’ সিরিজের সবচেয়ে দুর্বল উদ্বোধনী সংগ্রহ। তবে নির্মাণ ব্যয় মাত্র ১ কোটি ডলার হওয়ায় ছবিটি শেষ পর্যন্ত লাভে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

স্পিলবার্গের ছবিও চাপে

স্টিভেন স্পিলবার্গ পরিচালিত বিজ্ঞান কল্পকাহিনিনির্ভর ‘ডিসক্লোজার ডে’ তৃতীয় সপ্তাহে আয় করেছে ৮১ লাখ ডলার। এ পর্যন্ত ছবিটির উত্তর আমেরিকায় আয় ৯ কোটি ৪৩ লাখ ডলার এবং বিশ্বব্যাপী ১৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার। প্রায় ১১ কোটি ৫০ লাখ ডলার বাজেটের এই ছবিকে লাভে যেতে হলে বিশ্বব্যাপী প্রায় ৩০ কোটি ডলার আয় করতে হবে।

সামনে আরও বড় লড়াই

যদিও ‘সুপারগার্ল’ প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি, তবু সামগ্রিকভাবে হলিউডের গ্রীষ্মকালীন বক্স অফিস বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। মহামারির পর এটিই সবচেয়ে সফল গ্রীষ্মকাল হিসেবে দেখা যাচ্ছে। আয় ২০১৯ সালের একই সময়ের তুলনায় মাত্র ১ দশমিক ৭ শতাংশ পিছিয়ে।

আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে মুক্তি পাবে ‘মিনিয়নস অ্যান্ড মনস্টার্স’। এরপর একে একে আসবে ‘দ্য ওডিসি’ ও ‘স্পাইডার–ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’। তাই হলিউডের গ্রীষ্মকালীন বক্স অফিসে প্রতিযোগিতা আরও জমে ওঠার অপেক্ষায় দর্শক ও বিশ্লেষকেরা।