'সতলুজ' সিনেমা সরিয়ে নেওয়ায় ভারতে বিতর্ক, দিলজিৎ দোসাঞ্জের প্রতিক্রিয়া
'সতলুজ' সরানোর বিতর্কে দিলজিৎ দোসাঞ্জ

জিফাইভ থেকে ‘সতলুজ’ সিনেমা সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ভারতে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। মুক্তির মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে প্ল্যাটফর্মটি ছবিটি সরিয়ে নেয়। মানবাধিকারকর্মী জসওয়ান্ত সিং খালরার জীবন ও তাঁর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্মিত সিনেমাটিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন অভিনেতা-গায়ক দিলজিৎ দোসাঞ্জ।

জিফাইভের বিবৃতি ও বর্তমান অবস্থা

কোনো প্রচারণা ছাড়াই ৩ জুলাই সিনেমাটি নীরবে মুক্তি পায়। রোববার রাত থেকে ভারতে সিনেমাটি দেখা যাচ্ছে না। এক বিবৃতিতে জিফাইভ জানিয়েছে, ‘বর্তমান পরিস্থিতির কারণে’ ছবিটি আপাতত ভারতে প্রদর্শন করা হচ্ছে না। তবে কেন সরানো হয়েছে, তা স্পষ্ট করেনি প্ল্যাটফর্মটি। জিফাইভ আরও জানিয়েছে, তারা আইনি ও প্রক্রিয়াগত পথে ছবিটি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে, তবে কবে সম্ভব হবে, তা অনিশ্চিত।

প্রযোজনা ও সার্টিফিকেশন বিতর্ক

সিনেমাটি ভারতীয় সার্টিফিকেশন বোর্ডে তিন বছরের বেশি সময় ধরে আটকে ছিল। বোর্ড ১২৭টি কাটছাঁটের প্রস্তাব দিলেও নির্মাতারা তা মানতে রাজি হননি। ফলে ছবিটি সিনেমা হলে মুক্তি পায়নি। পরে কর্তন ছাড়াই ওটিটিতে মুক্তি দেন প্রযোজক।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এর আগে সিনেমাটি কানাডার টরন্টো ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রদর্শনের জন্য নির্বাচিত হয়েছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে লাইনআপ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিশ্বব্যাপী মুক্তির পরিকল্পনাও বাস্তবায়িত হয়নি। এই অবস্থায় ছবিটি হঠাৎ ওটিটিতে আসে এবং দ্রুত সরিয়ে ফেলা হয়।

দিলজিৎ দোসাঞ্জের প্রতিক্রিয়া

দিলজিৎ ইনস্টাগ্রাম লাইভে বলেন, তিনি আগেই ধারণা করেছিলেন এমন কিছু ঘটতে পারে। তবে তাঁর ধারণা ছিল, সিদ্ধান্তটি সোমবার অফিস খোলার পর আসবে, রোববার রাতেই নয়। তিনি জানান, ছবিটি কোনো প্রচার ছাড়াই প্রকাশ করা হয়েছিল। তাঁর মতে, প্রচারণা থাকলে হয়তো এটি আরও দ্রুত বন্ধ হয়ে যেত। তবু অল্প সময়ের মধ্যেই দর্শকের কাছে পৌঁছাতে পারায় তিনি সন্তুষ্ট।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দিলজিৎ আরও বলেন, ছবিটি ইতিমধ্যেই অনেক দর্শকের কাছে পৌঁছেছে এবং তরুণদের মধ্যে আলোচনা তৈরি করেছে। তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল যুগে কোনো কিছু পুরোপুরি মুছে ফেলা যায় না—এমনকি ছোট কোনো ভয়েস নোটও না।’ তাঁর মতে, ছবিটিকে থামানোর চেষ্টা যত হয়েছে, সেটি তত বেশি আলোচনায় এসেছে।

ছবির কলাকুশলী ও খালরা প্রসঙ্গ

ছবিটি প্রযোজনা করেছেন হানি ত্রেহান, অভিষেক চৌবে ও রনি স্ক্রুওয়ালা। এতে আরও অভিনয় করেছেন অর্জুন রামপাল, কনওয়ালজিৎ সিং, সুবিন্দর ভিকি ও গীতিকা বিদ্যা ওহলিয়ান।

জসওয়ান্ত সিং খালরা ছিলেন মানবাধিকারকর্মী, যিনি ১৯৮৪ থেকে ১৯৯৪ সালের মধ্যে পাঞ্জাবে হাজারো অজ্ঞাত মরদেহ দাহ ও বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধান করেছিলেন। পরে ১৯৯৫ সালে তিনি নিখোঁজ হন। ২০০৫ সালে চার পুলিশ সদস্য তাঁর অপহরণ ও হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন এবং তাঁদের সাজা বাড়িয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মানবাধিকার লঙ্ঘন ও রাষ্ট্রীয় সহিংসতার অভিযোগের বিষয়বস্তু হওয়ায় ছবিটি শুরু থেকেই বিতর্কে ছিল।