মেসির পেনাল্টি মিস: রোনালদোর ভক্ত স্ট্রিমারের অদ্ভুত কাণ্ড
মেসির পেনাল্টি মিস: রোনালদো ভক্তের অদ্ভুত কাণ্ড

লিওনেল মেসির পেনাল্টি মিসের ঘটনায় ফুটবল বিশ্বে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মিসরের বিপক্ষে বিশ্বকাপের ম্যাচে মেসি পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন। এ সময় গোলপোস্টের পেছনের গ্যালারিতে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর অন্ধভক্ত ও জনপ্রিয় স্ট্রিমার আই শো স্পিড (ড্যারেন জেসন ওয়াটকিন্স জুনিয়র) কুকুরের মতো ঘেউ ঘেউ করে এবং অদ্ভুতভাবে হাত-পা নেড়ে চিৎকার করতে থাকেন। মেসি পেনাল্টি মিস করলে স্পিড নিজেই অবাক হয়ে যান এবং লাইভ চ্যাটে বলেন, ‘এটা কি আসলেই কাজ করেছে? চ্যাট, এটা কি কাজ করেছে?’

মেসির বিশ্বকাপে পেনাল্টি রেকর্ড

আইটিভির তথ্যানুযায়ী, মেসি বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত আটটি পেনাল্টি শট নিয়ে চারটি মিস করেছেন, যা তাঁর অর্ধেক পেনাল্টি। চলতি আসরে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি মিস করার পর মিসরের বিপক্ষেও তিনি গোল করতে ব্যর্থ হন। এর মাধ্যমে টাইব্রেকার বাদে বিশ্বকাপের একই আসরে দুটি পেনাল্টি মিস করা ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হন মেসি। তবে স্পিডের কাণ্ডের কারণেই যে পেনাল্টি মিস হয়েছে, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। পেনাল্টি মিসের পরও আর্জেন্টিনা কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেছে।

কে এই আই শো স্পিড?

ড্যারেন জেসন ওয়াটকিন্স জুনিয়র, যিনি ‘আই শো স্পিড’ বা ‘স্পিড’ নামে পরিচিত, যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে জন্ম নেন। তিনি একাধারে অনলাইন স্ট্রিমার, ইনফ্লুয়েন্সার, ইউটিউবার ও র্যাপার। লাইভ স্ট্রিমিংয়ে অদ্ভুত কাণ্ড, অতিরিক্ত উত্তেজনা ও চিৎকারের জন্য তিনি বিশ্বজুড়ে পরিচিত। জেন-জি ও জেন-আলফা প্রজন্মের কাছে তিনি বিশেষভাবে জনপ্রিয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

২০১৬ সালে ইউটিউব চ্যানেল খোলার পর শুরুতে গেম খেলার ভিডিও দিলেও ২০২১ সালের দিকে লাইভ স্ট্রিমিংয়ে তাঁর মজার ও উগ্র প্রতিক্রিয়া দ্রুত সবার নজর কাড়ে। পরে মিস্টার বিস্টের সঙ্গে ভিডিও করে বড় ফলোয়ার আসে। ২০২২ সাল থেকে ফুটবল নিয়ে ভিডিও বানানো শুরু করেন এবং নিজেকে রোনালদোর অন্ধভক্ত হিসেবে পরিচয় দেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্পিডের জার্সি ‘অভিশাপ’?

স্পিড বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে যে দলের জার্সি পরে মাঠে খেলা দেখতে গেছেন, সেই দলই হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে। আইভরিকোস্ট, কেপ ভার্দে, ব্রাজিল ও পর্তুগালের জার্সি পরে তিনি মাঠে হাজির হয়েছিলেন এবং সেই দলগুলো হেরে যায়। আর্জেন্টিনা ও মিসরের ম্যাচে তিনি মিসরের জার্সি পরে ছিলেন, ফলে মিসর হেরে যায়। তবে আর্জেন্টিনার জার্সি পরা তাঁর একটি এআই-নির্মিত ছবি ভাইরাল হয়েছিল, যা ভক্তদের মধ্যে শঙ্কা তৈরি করেছিল।

স্পিডের জনপ্রিয়তা ও বিতর্ক

বর্তমানে ইউটিউবে স্পিডের সাবস্ক্রাইবার ৫৭ মিলিয়নের বেশি। ইনস্টাগ্রামে ৪৫ মিলিয়ন ও টিকটকে ৪৭ মিলিয়ন ফলোয়ার নিয়ে তিনি বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ইন্টারনেট সেলিব্রেটি। তিনি বেশ কয়েকবার ‘স্ট্রিমার অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার জিতেছেন। ফিফা তাঁকে অফিশিয়াল স্ট্রিমার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে, যার সুবাদে তিনি সরাসরি মাঠে খেলা দেখার সুযোগ পান। র্যাপার হিসেবেও তিনি পরিচিত; চলতি বিশ্বকাপের অফিশিয়াল অ্যালবামে তাঁর ‘চ্যাম্পিয়নস’ গানটি জায়গা পেয়েছে।

স্পিডের এই কাণ্ড ফুটবল ভক্তদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। কেউ কেউ তাঁর কাজকে মজার ও কৌতূহলোদ্দীপক বললেও অনেকেই একে খেলোয়াড়ের মনোযোগ নষ্ট করার অপচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। তবে মেসির পেনাল্টি মিসের পেছনে স্পিডের ভূমিকা কতটুকু, তা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।