২০১৯ সালের শেষের দিকে টিকটকে একটি ছোট নাচের ভিডিও পোস্ট করেন চার্লি গ্রেস ডি’অ্যামেলিও। এরপর খুব দ্রুতই ফলোয়ার বাড়তে থাকে তাঁর।
টিকটকে দ্রুত উত্থান
গানের সঙ্গে ঠোঁট মিলিয়ে নাচের ভিডিও বানিয়ে মাত্র দেড় বছরের মধ্যে প্ল্যাটফর্মটির সবচেয়ে জনপ্রিয় কনটেন্ট নির্মাতায় পরিণত হন। ২০২০ সালের নভেম্বরে অ্যামেলিও প্রথম টিকটকার হিসেবে ১০০ মিলিয়ন ফলোয়ার তৈরি করেন। বর্তমানে প্রায় ১৬ কোটি ফলোয়ার নিয়ে টিকটকে ফলোয়ারের দিকে দ্বিতীয় স্থানে আছেন এই ২২ বছরের তরুণী।
শৈশব ও নাচের প্রশিক্ষণ
যুক্তরাষ্ট্রের কানেটিকাট অঙ্গরাজ্যের নরওয়াকে বেড়ে ওঠেন অ্যামেলিও। তিন বছর বয়স থেকেই নাচ শিখেছেন। মা হেইডি ও বাবা মার্কের উৎসাহে তিনি জ্যাজ, ট্যাপ, ব্যালে, কনটেম্পোরারি ও হিপ-হপে দীর্ঘদিন প্রশিক্ষণ নেন। পাঁচ বছর বয়সেই নাচের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে শুরু করেন। প্রথমে কিং স্কুলে পড়াশোনা করেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠার পর অনলাইনভিত্তিক শিক্ষায় যুক্ত হন।
ব্যক্তিগত জীবন ও বিতর্ক
অ্যামেলিও ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২০ সালের এপ্রিল পর্যন্ত চেজ হাডসন নামের একজন সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন। ২০২২ সালের জুনে ল্যান্ডন বার্কার নামের আরেকজনের সঙ্গে তাঁর প্রেমের খবর সামনে আসে। সেটাও ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হয়ে গেছে। এরপর নতুন কোনো সম্পর্কের কথা জানা যায়নি। এছাড়া মা-বাবার সঙ্গে টাকাপয়সা নিয়ে বিরোধের কারণে সম্প্রতি আলাদা হয়ে গেছেন। অনেকে এ নিয়ে তাঁর সমালোচনা করেছেন। সংবাদমাধ্যমেও খবরের বিষয় হয়েছে।
বাণিজ্যিক সাফল্য
টিকটকে চার্লি ডি’অ্যামেলিওর নাচের ভিডিও কোটি কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। তাঁর এই দ্রুত উত্থান বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ দিয়েছে। প্রচলিত গণমাধ্যমও তাঁকে নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পরিচিতি এনে দিয়েছে। এখন তিনি প্রসাধনী ও পোশাকের নিজস্ব লাইনসহ বিভিন্ন ব্যবসায় যুক্ত আছেন। ২০২২ সালে জনপ্রিয় টিভি অনুষ্ঠান ‘ড্যান্সিং উইথ দ্য স্টারস’-এর ৩১তম আসরের শিরোপাও জেতেন অ্যামেলিও। ফলোয়ারে রেকর্ড গড়ার পর অ্যামেলিওর নাম ওঠে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে।
সামাজিক মাধ্যম ও অন্যান্য কাজ
পাঁচটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মিলে (টিকটক, ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, এক্স ও ইউটিউব) চার্লি ডি’অ্যামেলিওর বর্তমান ফলোয়ার ২১৬.৫ মিলিয়নের বেশি। তিনি অ্যানিমেশন সিনেমা ‘স্টারডগ অ্যান্ড টারবোক্যাট’-এ কণ্ঠ দিয়েছেন। বিভিন্ন ফ্যাশন ও প্রসাধনী ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করছেন এবং নিজের নামে একটি পানীয় বাজারে এনেছেন। তাঁর প্রথম বই ‘চার্লি: দ্য আলটিমেট গাইড টু কিপিং ইট রিয়্যাল’ প্রকাশিত হয় ২০২০ সালে।
আয় ও সম্পদ
ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, এসব কাজ থেকে এক বছরেই অ্যামেলিও আয় করেন প্রায় ৪০ লাখ মার্কিন ডলার। অনুমান করা হচ্ছে, বর্তমানে অ্যামেলিওর মোট সম্পদ ৪৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।



